বগুড়ার সাবেক পৌর প্রশাসক রাজিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

বগুড়ার সাবেক পৌর প্রশাসক রাজিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বর্তমান স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত বুধবার (৩ জুন) মন্ত্রণালয়ের সিটি কর্পোরেশন শাখা-১-এর উপসচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন আইন কর্মকর্তাকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলিম উদ্দিন হারুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজিয়া সুলতানা বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে হাটবাজার ইজারা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ ও লাভবান হয়েছেন। এ ছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি, বিধি বহির্ভূতভাবে ইমারতের (ভবন) নকশা অনুমোদন, চরম স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন খাত থেকে বড় অঙ্কের উৎকোচ বা ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সরকারি সব নিয়ম-কানুন মেনেই সততার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন ও কাজ করেছি। প্রশাসনের নিয়মের বাইরে গিয়ে এখানে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কাজ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। মূলত দায়িত্ব পালনকালে বিধি মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে যাদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে আঘাত লেগেছে, তারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। যেহেতু এটি প্রশাসনিকভাবে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাই আমিও চাই সঠিকভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক। কারণ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।”এ ব্যাপারে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, “তার (রাজিয়া সুলতানা) বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এই অভিযোগটি সরাসরি আমাদের কার্যালয়ে বা আমাদের কাছে করা হয়নি, এটি করা হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। তাই মন্ত্রণালয় থেকেই এর পুরো প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়াটি দেখভাল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে একজন আইন কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো তদন্ত সম্পন্ন করবে।” এদিকে সদ্য বিলুপ্ত বগুড়া পৌরসভার এই অনিয়ম ও মন্ত্রণালয়ের তদন্তের বিষয়ে নবনিযুক্ত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং এ সংক্রান্ত চিঠিটি দেখেছি। আইন সবসময় তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এখানে ব্যক্তি বা পদের চেয়ে আইনের শাসন ও স্বচ্ছতাই মুখ্য। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী যে ফলাফল আসবে, সেটিই চূড়ান্ত এবং সেটি সবাইকে মেনে নিতে হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171316