রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে থানার ভেতরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।  

এ ঘটনায়  রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানর ওসি আজাদ রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রংপুর মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।

ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে কোনো উসকানি ছাড়াই থানার ভেতরে তাকে মারধর করা হয়। তিনি দাবি করেন, একটি বিষয়ে আপত্তি জানাতে গেলে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকারিয়া ইসলাম জীম অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে কোতোয়ালি থানা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে।

রংপুর মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার রাতে দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতয়ালী থানার ওসি আজাদ রহমান ও কনস্টেবল বাসুদেবকেও পুলিশ লাইনে সংযুক্ত(ক্লোজড) করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নিরূপণে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মাহফুজুর রহমান এবং কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুকুমার রায়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সাংবাদিকদের বলেন, ওসির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে বিষয়টি বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ এক প্রেমিক যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। বিষয়টি মিমাংসার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন রাকিবুল ইসলাম রাকিবও। রাকিবুল ইসলামের দাবি, থানার ভেতরে উদ্ধার হওয়া ওই যুগলকে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়ে দলের এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন।

পরে থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে রাকিবুল ইসলাম তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, ‘আমি নিজ পরিচয় দিয়েছি। বলেছি আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং বিএনপির কর্মী। এরপরও আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। 

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171276