বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ১১২ জন মিলার চুক্তিবদ্ধ বন্ধ মিল চাতালে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ১১২ জন মিলার চুক্তিবদ্ধ বন্ধ মিল চাতালে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১১২জন মিলার সরককারি খাদ্যগুদামে ১০ হাজার ৭১৬ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এদিকে নতুন ধানের আগমনে বন্ধ হওয়া চাতাল মিলগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্যতা।

আজ বুধবার (৩ জুন) উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুনিরুল হক জানান, এই উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৭১৬ মেট্রিকটন চাল ও ধান ১১১৫ মেট্রিকটন বরাদ্দ এসেছে। মিল মালিকদের সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করার চুক্তির মেয়াদ গত ২৫ মে সোমবার শেষ হয়েছে।

উপজেলার ১১২ জন মিলার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ৪৯ টাকা কেজি দরে চাল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে বোরো ধান সংগ্রহ চলছে।

খাদ্য বিভাগ থেকে চলতি ইরি বোরো মৌসুমের চাল সংগ্রহ অভিযান সফল করতে তাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এক সময় দুপচাঁচিয়া উপজেলা চাতাল মিল ব্যবসা হিসাবে একক প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় অনেকে চাতাল মিল ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েন। চাতাল মিল ব্যবসার সেই সুদিন আজ আর নেই।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান ও চালের মূল্যের ব্যবধান থাকায় এবং সেইসাথে অটো মিলের দাপটসহ নানা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে উপজেলার প্রায় ৬০ শতাংশ ড্রাম বয়লারের হাসকিং রাইস মিল প্রায় বন্ধ। অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকটা দেউলিয়া হয়ে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেকে জীবিকার তাগিদে এখনো এই ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

কোন এক সময় উপজেলায় প্রায় ৫ শতাধিক সরকারি তালিকাভুক্ত মিল চাতাল ছিলো। সরকারের সাথে চাল সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বিভিন্ন সময় কালো তালিকাভুক্ত হতে হতে বর্তমানে উপজেলার মিল চাতালের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১১২টি। এর মধ্যে অটো রাইস মিল ১৪টি আর হাসকিং রাইস মিল রয়েছে ৯৮টি। এদিকে নতুন ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে বন্ধ হওয়া মিল চাতালগুলো চালু হয়েছে। ফিরে এসেছে ওই সব চাতাল মিলে কর্মচাঞ্চল্য।

এদিকে উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি মোবারক আলী, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সাখিদার, বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলী প্রামানিক জানান, বিগত বছরগুলোতে বাজার দরে ধান কিনে উৎপাদিত চাল সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রয় করতে গেলে ধান ক্রয় ও চালের বিক্রয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় লোকসানের কারণে অনেক মিল চাতাল মালিক তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। এক সময় এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় যেমন লাভবান হতো তেমনি এই চাতাল গুলোতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল।

চাতাল মালিকরা পুঁজিপতি বনেও গিয়েছিলেন, আর শ্রমিকেরা দারিদ্রতাকে জয় করেছিলেন। এত কিছুর মাঝেও অনেক মিল মালিক লোকসাানের আশংকা মেনে নিয়েই জীবিকার তাগিদে তাদের পৈত্রিক মিল চাতাল ব্যবসা ধরে রেখেছেন। বন্ধ হওয়া মিল চাতালগুলো পুনঃরায় চালুর জন্য সরকারি পর্যায়ে ঋণ সহায়তা প্রয়োজন বলে এইসব মিল চাতাল মালিকরা অভিমত ব্যক্ত করেন। আজ বুধবার (৩ জুন) পর্যন্ত উপজেলায় ১৭৫০ মেট্রিকটন চাল ও ৩২০ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/171194