মেয়ে হত্যায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাইলেন রামিসার বাবা
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসেছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তার সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি নিজের মেয়ে হত্যায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেছেন।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেছেন, আমি আদালতের কাছে সুষ্ঠু ন্যায়বিচার চাই। আমার মাসুম বাচ্চা বর্বরোচিত ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। আমি এই বিচারের দ্রুত কার্যকারিতা দেখতে চাই।
‘আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়, কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন ভেঙে না যায়। কোনো বাবা-মাকে যেন সন্তানের বিচার চাইতে আদালতের বারান্দায় এসে দাঁড়াতে না হয়’, ভাঙা গলায় বলছিলেন বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে আরও বলেছেন, ‘আমি সরকার ও বিরোধীদলের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা সংসদে এমন একটা আইন পাস করুন যেন যারা অপরাধের দায় স্বীকার করবে, সেই স্বীকারোক্তি দেওয়ার এক মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা ও তা কার্যকর করা হয়। আমি এবং দেশবাসী—সবাই এটাই প্রত্যাশা করি।’
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমের রামিসার উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করেন তার মা।
ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দাদের ডেকে এনে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে কাটা মাথা দেখতে পান তাঁরা। এ সময় স্বপ্না সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। একই দিন আদালত আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।
ওই দিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন এবং মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বদলির আদেশ দেন। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।
পরবর্তীতে গত সোমবার (১ জুন) আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170965