খুব শীঘ্রই বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে যোগ দিচ্ছেন দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

খুব শীঘ্রই বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে যোগ দিচ্ছেন দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

স্টাফ রিপোর্টার : নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পদায়ন করা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন সূত্র এটি নিশ্চিত করেছে, প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে দুই জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সিটি কর্পোরেশনে পদায়ন করা হবে। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

এর আগে, গত ২০ এপ্রিল দেশের ১৩তম এবং সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন হিসেবে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বগুড়া পৌর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো (১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত) ঐতিহ্যবাহী বগুড়া পৌরসভা বিলুপ্ত হয় এবং নতুন এই সিটি কর্পোরেশনের যাত্রা শুরু হয়।

২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই নতুন সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। গত ১৪ মে স্থানীয় সরকার বিভাগ দেশের ১৩ তম এই সিটি কর্পোরেশন গঠনের চূড়ান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করে। এরপর গত ১৯ মে এম আর ইসলাম স্বাধীন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে যাবে। অতীতে পৌরসভা থাকাকালীন কোনো অবৈধ ভবন কিংবা স্থাপনা উচ্ছেদ বা ভেঙে ফেলার সরাসরি কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। যার ফলে শুধু নোটিশ বা আদেশ জারি করেই পৌরসভার দায়িত্ব শেষ করতে হতো।

এমনকি শহরের কলোনী এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত একটি ভবনের নকশা বাতিল করা হলেও, আইনি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে তা অপসারণ বা ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়নি, ফলে তা আজও অক্ষত রয়ে গেছে।

সূত্র আরও জানায়, ম্যাজিস্ট্রেট যোগদানের পর পরই অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক উচ্ছেদ সরঞ্জামও বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। ফলে নকশাবহির্ভূত বা অবৈধ যেকোনো স্থাপনা অপসারণে আর কোনো প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নগরীতে যেকোনো ধরনের নকশাবহির্ভূত বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে খুব শিগগিরই পুরো শহরজুড়ে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, খুব শিগগিরই দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে এক সপ্তাহ বা কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের উপর সম্পূর্ণ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ন্যস্ত থাকবে। তারা মূলত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন। বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা থেকে শুরু করে শহরের যেকোনো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তাদের কার্যকরী ও পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170950