নওগাঁর রাণীনগরে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বিপাকে, দেখা নেই পাইকারদের
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানী পশুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর তারা চামড়া কিনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করলেও এ বছর তা হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ দিয়ে ঘরের বারান্দায় কিম্বা গুদাম ঘরে স্তুপ করে রাখলেও পাইকার কিংবা ট্যানারি প্রতিনিধিদের দেখা মিলছে না।
ফলে চামড়া নিয়ে তারা একদিকে যেমন বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা অন্য দিকে লোকসানের আতঙ্কে রয়েছে এই মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছর যে সমস্ত পাইকারদের সাথে ব্যবসা করতো তারা এবছর কোরবানীর পশুর চামড়া কেনার আশ্বাস দিলেও কেনার পর তারা আর তেমন যোগাযোগ রাখছে না। সব মিলে রাণীনগরে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্রয়কৃত চামড়া নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এবার কোরবানীর পর গরুর বিভিন্ন মাপের চামড়াগুলো প্রকারভেদে ৪শ’ থেকে শুরু করে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত দরে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা কিনে নেয়। কেনার পরে কাঁচা চামড়া স্বল্প লাভে পাইকারদের কাছে হাত বদল করত। কিন্তু এবছর বাজারের গতিবিধি অন্য রকম। বেচা-কেনা না হওয়ায় এই ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ দিয়ে মালগুলো রক্ষা করছে।
লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করার কারণে প্রতিটি চামড়ার দাম ক্রয়মূল্যের সাথে প্রায় ২৫০ টাকা যোগ হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে এবারে লবণের দামও বস্তা প্রতি ১শ’টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এমনটাই বলছেন ব্যবসায়ীরা। উপজেলার কুবড়াতলী গ্রামের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী বাদল জানান, এবারে আমি প্রায় ৩ হাজার পিস গরুর চামড়া ক্রয় করেছি।
প্রতি বছর চামড়াগুলো দুই একদিনের মধ্যে বিক্রি হতো। কিন্তু এবারে কোন পাইকার কিম্বা ট্যানারি প্রতিনিধি আমাদের কাছে না আসায় চামড়াগুলো বিক্রি করতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে লবণজাত করে খোলা জায়গায় পলিথিন টানিয়ে রাখছি। জানি না লাভ হবে না লোকসান হবে। এ বছর ঢাকার ভেতরে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, এবারে চামড়া সুরক্ষায় প্রায় ১১টি প্রতিষ্ঠানে ৫ টন লবণ দিয়েছি। পাশাপাশি ঈদের আগে চামড়া কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ বেশ কিছু লোকজনদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। একই সাথে এই চামড়াগুলো নষ্ট না হয় সে দিকে আমরা নজর রাখছি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170948