দক্ষিণ কোরিয়ায় পোষা প্রাণীদের ‘ভিআইপি লাইফস্টাইল’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ায় পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে এক বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু মানুষ নয়, পরিবারের প্রিয় পোষা প্রাণীটিও পাচ্ছে ফাইভ-স্টার হোটেলের মতো রাজকীয় সেবা। গেল মে মাসের দীর্ঘ ছুটিতে দেশটির বিভিন্ন পেট-ফ্রেন্ডলি (পোষা প্রাণী-বান্ধব) রিসোর্টগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়।
বুকিং ফি বেশি হওয়ার পরও কয়েক মাস আগেই বুক হয়ে যাচ্ছে পেট-ফ্রেন্ডলি রিসোর্টগুলোর বিশেষায়িত সব রুম। এক সরকারি জরিপ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ২৯ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারেই এখন পোষা প্রাণী রয়েছে। আর এই বিশাল অংশকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে এক নতুন পর্যটন অর্থনীতি।
রিসোর্টে পোষা কুকুরদের রাজকীয় সেবা ও নিরাপত্তাহোটেল বা রিসোর্টে প্রবেশের প্রথম শর্তই হলো স্বাস্থ্য সচেতনতা। কুকুরের জলাতঙ্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের কাগজপত্র দেখিয়েই এখানে চেক-ইন করতে হয়। করিডোরজুড়ে রাখা থাকে মলমূত্র পরিষ্কারের বিশেষ কিট। এছাড়াও রয়েছে ‘পেট-পোর্ট’ নামক একটি লয়্যালটি প্রোগ্রাম, যেখানে বারবার ভ্রমণের জন্য মেলে আকর্ষণীয় পুরস্কার।
কোনো জরুরি প্রয়োজনে মালিকরা তাদের কুকুরকে রিসোর্টের ট্রেইনারদের কাছে কিছু সময়ের জন্য ডে-কেয়ারে রেখে বাইরেও যেতে পারেন। কুকুরের চোখের আরাম ও সুরক্ষায় থাকা বিশেষ রুম সাধারণ রুমের মতো নয়। কুকুরের জয়েন্টের সুরক্ষার জন্য মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে নন-স্লিপ বা পিছলে না যাওয়ার টাইলস। খাটগুলো তৈরি করা হয়েছে বেশ নিচু করে, যেন কুকুর সহজেই উঠতে পারে। এমনকি কুকুরের চোখের সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে রুমের লাইটিং করা হয়েছে নরম ও পরোক্ষ। প্রতিটি রুমে কুকুরের জন্য তোয়ালে, কুশন ও সুস্বাদু খাবার দেয়া হয়।
পাঁচ হাজার বর্গমিটারের খেলার মাঠ ও স্টেক ডিনাররিসোর্টের বাইরে রয়েছে ৫ হাজার বর্গমিটারের এক বিশাল প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ। কুকুরের আকার অনুযায়ী (ছোট, মাঝারি ও বড়) মাঠটিকে আলাদা ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এখানকার ডাইনিং বা রেস্তোরাঁ। কুকুরের জন্য রয়েছে বিশেষ চেয়ার, যাতে তারা মালিকের মুখোমুখি বসে খেতে পারে। এখানে কুকুরের জন্য রয়েছে ২৪ হাজার কোরিয়ান উয়ন মূল্যের বিশেষ ‘স্টেক কোর্স’। এর সাথে দেয়া হয় স্যুপ, পুডিং এবং বাঁধাকপি দিয়ে তৈরি কুকুরের উপযোগী বিশেষ ‘ওয়াইন’।
উদ্ধার হওয়া কুকুরের পুনর্বাসন ও উৎসব এই আতিথেয়তা কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সিউল অ্যানিম্যাল কেয়ার সেন্টারের সাথে যৌথভাবে কাজ করে সোনো পেট রিসোর্ট নামের একটি পেট-ফ্রেন্ডলি রিসোর্ট। তারা আশ্রয়হীন ও সুবিধাবঞ্চিত কুকুরদের এনে এখানে বিশেষ সামাজিকীকরণ প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাদের জন্য নতুন পরিবারের সন্ধান করে।