চিন্তা চেতনায় অনন্য শহীদ জিয়া

চিন্তা চেতনায় অনন্য শহীদ জিয়া

বেদনা মথিত ৩০ মে। আধুনিক বাংলাদেশের মহান স্থপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা আমাদের মহান স্বাধীনতার ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম -এর ৪৫ তম শাহাদৎ বার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এদিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশি-বিদেশী চক্রান্তকারী ও তাদের দোসরদের হাতে শাহাদৎ বরণ করেছিলেন এদেশের মানুষের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা ও স্বতন্ত্রবাদের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশের ইতিহাসের কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অন্যতম। রাজনৈতিক নেতা না হয়েও রাজনীতির অপরিহার্য প্রয়োজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকহানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাকান্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের অব্যবহিত পর দিশেহারা জাতিকে পথ নির্দেশ করেছিলেন তিনি। তেমনি ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে যখন কোন বৈধ সরকার ছিলো না স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন, তখন জাতির ক্রান্তিলগ্নে এবং সেই বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এনে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করে। প্রেসিন্ডেন্ট জিয়া ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের বিশৃঙ্খল অবস্থা দূর করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। জাতি গঠনের মৌলিক কাজ করার সাথে সাথে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র গঠনের দিকে কঠোর মনোযোগ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে জননিরাপত্তা ও জনসেবার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্যও অনেক ইতিবাচক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছিলেন।

বেসামরিক প্রশাসনে মেধার প্রতি গুরুত্বারোপ, নতুন চাকুরি ও বেতন কঠোমো গঠন এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। সামরিক বাহিনীকে আধুনিক পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সজ্জিত, সম্প্রসারিত করা এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছিলেন। গ্রাম সরকার গঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্য্যকর করা হয়েছিল।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন মুক্ত জাতি এখন আবারও পরিবর্তনের আশায় চেয়ে আছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী নতুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের কর্মযোগের প্রতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছে ১৯৪৫ সালে, দেশ ভাগ হয়েছে ১৯৪৭ সালে, স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি ১৯৭১ সালে। ৫৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু আমাদের দেশকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পেরেছি। এতোদিন শুধু মুক্তি যুদ্ধের পক্ষ আর বিপক্ষ নিয়ে নিজেদের মধ্যে হানাহানি করেছি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের শিকার হয়ে একটি স্বাধীন সুন্দর দেশকে অনেক দূর পিছিয়ে নিয়েছি, ভারতকে খুশি রাখতে আওয়ামী শাসক গোষ্ঠী তৎপর ছিল যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাস্কর ব্যাপার। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপিকে সজাগ থাকতে হবে। কেননা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে ‘র’ এর সম্পৃক্ততা ছিল কালো থাবার ন্যায়। মন্ত্রী, এমপিকে হতে হবে স্বাচ্ছা দেশ প্রেমিক। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সচিবালয়ের কর্মকর্তাদেরকে রাখতে হবে কড়া নজরদারিতে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশ নায়ক তারেক রহমানের উপদেষ্টামন্ডলীতে যেন কোন গুপ্তচর স্থান না পায় তা পূর্বের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। দেশ মাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা বৃদ্ধিতে পাঠ্য পুস্তকে প্রবন্ধ অন্তর্ভূক্ত করতে হবে, সভা, সেমিনার এবং জনসচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরতে হবে। এজন্য শিক্ষা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছা করে- 

আমার দেশ আমার মাটি,
আমরা সবাই সোনার চেয়েও খাঁটি
সবাই মিলে গড়বো দেশ
আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ
দুর্নীতি, অনিয়মকে না বলি
নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

এখন দেশকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে। প্রতিযোগিতা করে রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজন নেই, সকলে মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন নতুন পরিকল্পনা তৈরি করি, তা বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রধানের নিকট উপস্থাপন করি। দেশকে ভালোবেসে সকলে মিলে দেশের উন্নয়নে কাজ করি, সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠন করি। এ জন্য বিএনপির নীতি-নির্ধারক মহলকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা মন্ত্রী এমপিদের দুর্নীতি এবং কর্মকান্ড মনিটরিং করতে হবে। দলীয় নেতা কর্মীদেরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ হতে বিরত রাখতে হবে। বিএনপির অংগ দলগুলোর লাগাম টেনে ধরতে হবে। কেননা জমি দখল, বিচার সালিস থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে হবে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক সহযোগী সংগঠন পরিচালনা করতে হবে। ভূইফোঁড় সংগঠনের ন্যায় অনেক সংগঠন দাঁড় হয়েছে তাদের গোষ্ঠী স্বার্থে। এদের জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। তাই সুবিধাভোগীরা জাতীয়তাবাদী নাম দিয়ে যে সকল সংগঠন দাঁড় করছে সেগুলোকে বন্ধ করতে হবে। কেননা দলের বারোটা বাজিয়ে এরা সটকে পড়বে। বিএনপি সহ সকল সহযোগী সংগঠনকে সু-সংগঠিত করা এবং দলীয় নেতাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা অপরিহার্য্য। কারণ দলে এখন কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের তৎকালীন পরিচালিত সমাজ ধ্বংসকারী দুষ্টচক্রগুলো বিএনপিসহ সকল অংগ সংগঠনের বিভিন্ন শাখার নেতাদের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। যার দরুন বিএনপিকে আওয়ামীলীগের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি বহন করতে না হয় সেই দিকে মনোযোগ দিয়ে সৎ এবং যোগ্য নেতাদেরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কারণ বিএনপি নেতা নির্ভর দল নয়, কর্মী এবং সমর্থক নির্ভর দল। সাধারণ জনগণ এবং কর্মী সমর্থকদের প্রতি যেন কোন অবিচার না হয় সেই দিকে তীক্ষè নজর দিতে হবে সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদেরকে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে বিএনপি বদ্ধপরিকর। আর সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান। তাই সকলে মিলে দেশকে ভালোবেসে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসি এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করি।

লেখক-

মাহ্ফুজুর রহমান রাজু

সাংবাদিক এবং প্রাবন্ধিক
সাবেক দফতর সম্পাদক বগুড়া জেলা বিএনপি

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170869