“ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস” -এক কালজয়ী আদর্শের নাম!

“ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস” -এক কালজয়ী আদর্শের নাম!

রূপবতী বাংলা আমাদের কতোভাবেই না সমৃদ্ধ করেছে! সত্যিই তার হিসাব মেলানো মুশকিল। উত্তর জনপদের বগুড়া জেলা সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অন্যতম ভাগীদার। পুন্ড্রনগরখ্যাত বগুড়া একসময় বাংলার রাজধানী ছিলো। এই পবিত্র ভূমিতে জন্মেছেন অনেক মহান মানুষ যাদের অবদান জাতি কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করবে পৃথিবী যতোদিন থাকবে। 

আজ আমরা একজন মহান মানুষকে নিয়ে স্মৃতিকাতর হতে চাই। যিনি ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মেছিলেন। নাম জিয়াউর রহমান। ক্ষণজন্মা, মহিরুহ এই মানুষটিকে ছোট পরিসরে তুলে ধরা প্রায় অসম্ভব। আজ তার মর্মান্তিক জীবনাবসানের ক্ষণে তাকে নিয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই। আসলে তিনি কেমন মানুষ ছিলেন? 

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ, গভীর রাত। চারদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত বর্বরতায় দিশেহারা বাঙালি জাতি। ঠিক তখনই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তেজোদ্দীপ্ত কণ্ঠে মেজর জিয়া বাংলাদেশের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করলেন! সমগ্র জাতি যেনো অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত জ্বলে উঠেছিল সেদিন থেকেই। শুরু হলো আমাদের “মুক্তির যুদ্ধ”!

মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়া জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করলেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি চাইলেই ক্যাম্পে বসে থেকে তার দায়িত্ব পালন করতে পারতেন কিন্তু তিনি নিজে সম্মুখ সারিতে থেকে যুদ্ধ করতেন-যেটা তার সীমাহীন দেশপ্রেমের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি তার বিশ্বাসের জায়গায় এতোটাই অটল ছিলেন- বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই! বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত হলেন তিনি।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ যখন আবার অস্থিরতার মুখোমুখি, তখন সিপাহি-জনতার এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের হাল ধরলেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। রাজকীয় আভিজাত্য তাকে স্পর্শ করতে পারলো না! তিনি বিলাসী জীবন পরিহার করে অতি সাদাসিধে জীবনযাপন করতে লাগলেন। সাধারণ মানুষের হৃদয়ের ব্যথা নিবিড়ভাবে অবলোকন করার চেষ্টায় নিমগ্ন থাকতেন। ভেদাভেদ ভুলে মিশে যেতেন অতি সাধারণ মানুষের কাতারে-অবলীলায় নিসঙ্কোচে! একজন রাষ্ট্রনায়ক কি করে এতোটা সহজে প্রান্তিক মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন সেটা এক বিস্ময়!

জনমানুষের এই ঈর্ষান্বিত ভালোবাসাই কাল হলো তার! 

৩০শে মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সেনাকর্মকর্তাদের দ্বারা সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হলেন জনমানুষের হৃদয়ের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান! দুই সন্তান নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দিশেহারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থাকা এই মানুষটির মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো অর্থই অবশিষ্ট ছিল না। নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য কোনো বিলাসবহুল বাড়ি বা সম্পত্তিও তিনি রেখে যাননি।

যে মানুষটি কোটি কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করতেন, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দিনরাত খাটতেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখাতেন তাঁর নিজের জীবনের সঞ্চয় বলতে ছিল কেবল একটি ভাঙা সুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি। সততা ও নির্লোভ জীবনের এর চেয়ে বড় এবং বেদনাতুর উদাহরণ আর কী হতে পারে? পারে না! 

সেদিন জিয়ার মৃত্যুর শোক কেবল মঈনুল রোডের বাসা বা বঙ্গভবনের চার দেয়ালে আটকে ছিল তা নয়; ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র বাংলাদেশ তথা বিশ্বময়! গ্রামের কৃষক কিংবা খেটে খাওয়া দিনমজুর যখন রেডিওতে শুনল তাদের প্রিয় ‘জিয়া সাহেব’ আর নেই, তারা যেনো প্রিয়জন হারানোর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল সেদিন। যে মানুষটি রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সাধারণ মানুষের সাথে কোদাল হাতে মাথায় মাটির ঝুড়ি তুলে নিয়েছিলেন, তাঁর এই আকস্মিক বিদায় প্রান্তিক মানুষের বুকে এক গভীর ক্ষত চিহ্ন এঁকে দিয়েছিলো। চরাঞ্চলের নিঃস্ব মানুষটিও কেঁদে আকুল হয়েছিল এই ভেবে “আমাদের দুঃখ বোঝার লোকটা তো চলে গেল!”

স্বামী হিসেবে জিয়াউর রহমান অত্যন্ত দায়িত্বশীল, গম্ভীর এবং পারিবারিক বিষয়ে পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। সামরিক জীবনের কঠোর অনুশাসন, শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততার মাঝেও পারিবারিক জীবনে তিনি একজন অতিসাধারণ বাঙালি স্বামীর মতোই ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ এবং তাঁদের পারিবারিক জীবন থেকে জানা যায়- ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আর্মির ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে বেগম খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়। এটি পারিবারিকভাবে ঘটলেও বিয়ের আগে জিয়াউর রহমান নিজেই খালেদা জিয়ার মায়ের কাছে গিয়ে সরাসরি বলেছিলেন, “খালা, আমি আপনার জামাই হতে চাই”। বিয়ের প্রস্তাবটি খুব নাটকীয় ও রোমান্টিক ছিল। তবে বিয়ে পরবর্তী জীবন ছিল ভীষণ ছিমছাম ও সাদাসিধে।

মিলিটারি অফিসার হওয়ার কারণে পরিবারের ভেতরেও জিয়াউর রহমান এক ধরনের শৃঙ্খলার চর্চা করতেন। তিনি খুব বেশি কথা বলতেন না এবং গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তবে স্ত্রীর প্রতি তাঁর সম্মান ও আন্তরিকতা ছিল গভীর। ষাটের দশকে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে কর্মরত থাকার সময় অবসরে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ঘুরতে বের হতেন, যা তাঁদের দাম্পত্যের সুন্দর বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দেয়। স্বামী হিসেবে জিয়ার বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি কর্মক্ষেত্র এবং পরিবারকে পুরোপুরি আলাদা রাখতেন। জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান ও পরবর্তীতে দেশের রাষ্ট্রপতি হলেও, তিনি কখনোই বেগম জিয়াকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক প্রভাবের ভেতর জড়াতে দেননি। তিনি চাইতেন তাঁর স্ত্রী সাধারণ একজন গৃহিণীর মতোই ঘর ও সন্তানদের দেখাশোনা করবেন। বেগম জিয়াও স্বামীর এই ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অত্যন্ত নিভৃতে ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে বড় করে তোলেন। 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন জিয়াউর রহমান কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে চলে যান, তখন বেগম জিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মাঝেও পাকিস্তানি মিলিটারির চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, যেন তাঁর কারণে রণাঙ্গনে থাকা জিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় মনসংযোগে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়। এই সকল ত্যাগ ও বোঝাপড়া তাঁদের দাম্পত্যকে এক দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিল।

রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রী হিসেবে বেগম জিয়া চাইলে অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবন হয়তো কাটাতে পারতেন। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় নি। জিয়াউর রহমান নিজে যেমন সৎ ও অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন, তেমনি পরিবারের জন্যও কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা বা বিলাসিতা পছন্দ করতেন না। স্বামী হিসেবে তিনি পরিবারকে কোনো অবৈধ অর্থ বা আভিজাত্যের মোহে জড়াতে দেননি। স্বামীর বেতনের ২ হাজার টাকার মধ্যে সংসার সামলানো থেকে শুরু করে যাবতীয় বিলাসিতা সীমাবদ্ধ ছিলো বেগম জিয়ার। প্রতিদিনের খাবারের মেনুতে চাইলেই মাছ মাংস বা অনেক আয়োজন করা সম্ভব ছিলো না। জিয়ার নির্দেশেই খাবারের মেনুতে অতি সাধারণ আয়োজন থাকতো। মাছ বা মাংসের যেকোনো একটা, সাথে হয়তো ডাল থাকতো। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বাইরে খেতে হলেও তিনি বলে দিতেন কি খাবেন। তিনি মনে করতেন গরীব রাষ্ট্রের মানুষদের খাবার নিয়ে বিলাসিতা করা উচিত নয়। এতোটাই গভীর চিন্তা করতেন রাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপে।  বাবা হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত কঠোর, ডিসিপ্লিনড এবং চরম মিতব্যয়ী। তিনি ছিলেন একাধারে স্নেহশীল কিন্তু আদর্শের জায়গায় অত্যন্ত কঠোর, যিনি তাঁর সন্তানদের কোনো রাজকীয় আভিজাত্য না দিয়ে সাধারণ ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপ্রধানের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তাঁর দুই ছেলে, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো বড় করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপসহীন। দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকার পরও তাঁর সন্তানদের কোনো ধরনের বিশেষ বা বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে দেননি। তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের এক স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, জিয়াউর রহমানের নিজের পুরনো বা ছোট হয়ে যাওয়া শার্ট-প্যান্ট কেটে দর্জি দিয়ে তাদের দুই ভাইয়ের জন্য জামা তৈরি করা হতো। তারা সচরাচর বাসায় সেগুলোই পরতেন। বন্ধুদের দামী পোশাক দেখে অনুযোগ করলে তিনি বলতেন, “তোমাদের বাবা বড়লোক নয়, সামান্য কয়টা টাকার বেতনে চাকরি করে। তার সামর্থ্যে যা আছে, তোমাদের তাই পরতে হবে।” 

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর বরাদ্দকৃত সুযোগ-সুবিধা যাতে সন্তানরা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি কড়া নজর রাখতেন। সন্তানদের যাতায়াত বা ব্যক্তিগত কোনো কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির গাড়ি কিংবা বঙ্গভবনের অতিরিক্ত সুযোগ ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। তিনি চাইতেন তাঁর সন্তানরা সাধারণ মানুষের মতোই বড় হোক। 

সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন রুটিনের ব্যাপারে তিনি খোঁজখবর রাখতেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে যেটুকু সময় দিতেন, সেখানে সন্তানদের নৈতিকতা, সততা এবং দেশপ্রেমের শিক্ষা দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের কিছুটা দূরত্বে রাখতেন, যেন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কেউ কোনো অনৈতিক সুবিধা বা তদবির করতে না পারে। তিনি তাঁর সন্তানদেরও ছোটবেলা থেকেই এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বলয়ের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন।
ইতিহাসে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতা এসেছিলেন-আছেন, কিন্তু ক্ষমতার শীর্ষস্থানে বসেও সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটানো নেতা সত্যিই বিরল। জিয়াউর রহমান ঠিক এই জায়গাতেই সবার থেকে আলাদা ছিলেন।

 তিনি শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে দেশ চালাননি, বরং সাধারণ কাপড় পরে প্রত্যন্ত গ্রামের কাদা-মাটিতে নেমে গেছেন। কৃষকদের সাথে নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটেছেন। মাইলের পর মাইল মেঠোপথ পায়ে হেঁটে গরিব মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো তাঁর সততা। দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি নিজের জন্য কোনো বিলাসবহুল বাড়ি বা গাড়ি বানাননি। মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ছিল না, সন্তানদের জন্যও কোনো সম্পত্তি রেখে যাননি। তাঁর সুটকেসে পাওয়া গিয়েছিল কেবল কয়েকটি সাধারণ শার্ট আর তালি দেওয়া ছেঁড়া গেঞ্জি। রাষ্ট্রীয় অর্থকে তিনি নিজের সম্পদ মনে না করে জনগণের আমানত মনে করতেন। ক্ষমতার লোভকে জয় করার এই নিঃস্বার্থ ও সাদাসিধে জীবনই তাঁকে ইতিহাসে অনন্য করে রেখেছে-রাখবে চিরকাল। 

আজকের লোভাতুর বিলাসী রাজনৈতিক বাস্তবতার যুগে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্যপট আমাদের নতুন করে এক গভীর আত্মোপলব্ধির মুখোমুখি দাঁড় করায়। বর্তমান সময়ে যখন ক্ষমতার সামান্য ছোঁয়া পেলেই অনেককে বিপুল অর্থবিত্ত, সেটার অপব্যবহার এবং আভিজাত্যের অন্ধ প্রতিযোগিতায় মত্ত হতে দেখি, তখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এই চরম নির্লোভ জীবনযাপন কেবল ইতিহাস নয়, সেটা আমাদের আগামীর বাংলাদেশের জন্য এক মহামূল্যবান দিকনির্দেশনা।

ভবিষ্যত রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্নে তরুণ প্রজন্ম আজ এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বপ্ন দেখে যেখানে নেতা হবেন জনগণের প্রকৃত সেবক, শোষক নন। আগামী দিনের নেতৃত্ব যদি টেকসই, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনমুখী হতে হয়, তবে ক্ষমতা উপভোগ করার প্রবণতা বিসর্জন দিয়ে জিয়ার মতো সাধারণ মানুষের কাতারে এসে দাঁড়াতে হবে। জিয়াউর রহমানের সেই ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস কেবলই কি দারিদ্র্যের প্রতীক? কখনোই না, তা ছিল ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে থেকেও লোভকে সংবরণ করার এক মহান ব্রত! যা কোনো সাধারণ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়। তিনি ছিলেন অসাধারণ মানবীয় গুণাবলির অধিকারী একজন “আদর্শ মানুষ”! 

ভবিষ্যতের রাজনীতি বা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যখনই সততা, জবাবদিহিতা, সুশাসন, দুর্নীতি আর জনকল্যাণের প্রশ্নে সংকট তৈরি হবে, তখনই জিয়াউর রহমানের জীবন এক আদর্শিক মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। আজ এত বছর পরও, সেই ভাঙা সুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জির স্মৃতি প্রতিটি সৎ ও প্রান্তিক বাঙালির হৃদয়ে এক গভীর নীরব দীর্ঘশ্বাস আর শ্রদ্ধার জন্ম দেয়। তিনি নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে নিভৃতে দেশবাসীকে ভালোবেসে গেছেন! বিনিময়ে নিজের জন্য রেখে গেছেন কেবল কোটি মানুষের চিরস্থায়ী ভালোবাসা। তার আদর্শে উজ্জীবীত হয়েই মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রের পথে বহুদূর এগিয়ে যাক বাংলাদেশ!!

লেখক

এস এম হুমায়ুন কবির 
প্রশিক্ষক ও নির্মাতা

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170868