সুনামগঞ্জে লেডি কান্তা চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

সুনামগঞ্জে লেডি কান্তা চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

সুনামগঞ্জ জেলা শহরে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে চুরি ও ডাকাতির অভিযোগে কান্তা বেগম ওরফে লেডি কান্তা এবং তার দুই নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল রবিবার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে একটি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন—শহরের হোসেনপুর (টুকেরঘাট) এলাকার কান্তা বেগম (লেডি কান্তা), হাছননগর এলাকার সুবর্ণা আক্তার আঁখি এবং জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জান্নাত আক্তার।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কান্তা বেগমের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শহর ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

পুলিশ জানায়, অভিনব কৌশলে চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাহায্য চাওয়ার অজুহাতে কিংবা গৃহকর্মী হিসেবে প্রবেশের চেষ্টা করত। বাসাবাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলে তারা আলমারি বা ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মুঠোফোন চুরি করে পালিয়ে যেত।

তবে চুরির সময় গৃহকর্তা বা পরিবারের কারো কাছে ধরা পড়লে বা কেউ তাদের  বাধা দিলে তারা চরম উগ্র রূপ ধারণ করত। তখন তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যেত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। গতকাল (রবিবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর পুলিশি হেফাজতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কান্তা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের লুকিয়ে রাখা ধারালো রামদাটি উদ্ধার করে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কান্তা ওরফে লেডি কান্তা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে শহরের মানুষের ঘরে ঢুকে চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। কান্তাসহ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, জেলা শহরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170858