এবার বাজারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলো বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংস

এবার বাজারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলো বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংস

স্টাফ রিপার্টার: প্রতিবছর কোরবানির মাংস এবং বাজারের মাংসের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও এবছর বাজারের চেয়ে বেশি দামেই বিক্রি হলো বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা মাংস। ঈদুল আজহার দিন প্রত্যেক বছরের মত বগুড়া শহরের কয়েকটি স্থানে এবারও বসেছিল কোরবানি মাংসের বেচাকেনার বাজার। ঈদের দিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বগুড়ার রেলওয়ে স্টেশনের সামনে, দুই নাম্বার রেলঘুমটি, সাতমাথার গোহাইল রোডের সামনে ও কলোনী  এলাকায় বসেছিল এই বাজার।

প্রতিবছর ক্রেতা এবং বিক্রেতার হাঁক-ডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে ভ্রাম্যমাণ এই বাজার। এই হাটে ক্রেতারা বলেছেন তুলনামূলকভাবে এবছর মাংসের দাম বেশি। সাধারনত এই মাংসের ক্রেতা হোটেল ব্যবসায়ীরা হলেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধŸগতির কারণে অনেক  মধ্যবিত্ত¦রা যারা কোরবানি দিতে পারেননি তাদের মাংস কিনতে আসেন বেশি। তবে এবছর ক্রেতার সংখ্যা বেশি ছিল  যারা বিভিন্ন কারণে কোরবানি দিতে পারেননি তারা।

আজ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর থেকেই বগুড়া শহরের উল্লেখিত স্থানে কয়েক ঘন্টার জন্য এই বাজার বসে। অল্প আয়ের মানুষরা  ঈদের দিন সারা শহর  ঘুরে ঘুরে  যে মাংস সংগ্রহ করে, তার কিছু অংশ নিজের জন্য রেখে বাড়ি ফেরার সময় বিক্রি করে।

এতে মাংস বিক্রি করে তারা বেশ কিছু অর্থ নিয়ে  বাড়ি ফেরে। বিকেল থেকেই এই ভ্রাম্যমাণ এসব বাজারে ডিজিটাল মেশিন নিয়ে তিন থেকে চারজন বিক্রেতা বসে থাকেন।  আর  বিক্রেতারা সারাদিন  বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে পাওয়া মাংস নিয়ে এই বাজারে নিয়ে আসেন।  সংগ্রহ করা মাংস কেনা হচ্ছিল থেকে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। আর বিক্রেতারা  বিক্রি করেছে ৮০০ টাকায়।

বগুড়ার সাতমাথার গোহাইল রোডের সামনে মাংস কিনছিলেন  ফখরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম। তারা বললেন,  কয়েক বছর থেকেই কোরবানির ঈদে এই বাজারে মাংস কেনা-বেচা করেন। দাম বেশি হওয়ায় এবার অনেকেই যেটুকু মাংস পেয়েছেন তার মধ্যে থেকে কিছু মাংস নিজেদের জন্য  রেখে পুরো মাংসটাই বিক্রি করে দিয়েছেন। তারা  ৭ থেকে ৭৫০ টাকায় কিনে  টাকা কেজি কিনে  ৮শ’ টাকায় বিক্রি করেছেন।

বগুড়ার সোনাতলা এলাকার শফিকুল তার  স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঈদের দিন  সকালে শহরে এসেছেন। বললেন গরুর মাংসের এত দাম যে  তার মত দিনমজুরের তা কিনে খাওয়ার সাধ্য হয় না। তাই সবাইকে নিয়ে এসেছেন  যাতে করে দুই একদিন  খাওয়া যায় এবং বাদ-বাকি বিক্রি করে  কিছু টাকা নিয়ে গেলে অন্য খরচও করতে পারব। তিনি এবং তার পরিবার মিলে ৬ কেজি মাংস পেয়েছেন। ৩ কেজি রেখে ৩ কেজি  ২২৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, প্রতিবছর একটা বাজেটের মধ্যে কোরবানি দেয়। কিন্তু এবছর সেই বাজেটে কোরবানির ভাগ পায়নি। সবকিছুর দাম বেড়েছে সেই হিসেবে বেতন বাড়েনি। এই জন্য কোরবানিও দিতে পারেননি। সেই জন্য ভাল মাংস কেনার জন্য এসেছেন। পরিবারের জন্য ৮ কেজি মাংস কিনলেন ৬৪শ’ হাজার টাকায়।  বললেন সন্তান এবং স্ত্রীরা যেন মনখারাপ না করে।’

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170815