আকাশ থেকে রোদ নয় দিনমান যেন ঝরছে আগুন, বগুড়ার তাপমাত্রা ৩৬.২ ডিগ্রি
স্টাফ রিপোর্টার : তিনদিন হলো আকাশে মেঘের লেশমাত্র নেই। সূর্য যেন ঠিক মাথার ওপর এসে আগুন ঢালছে। তপ্ত রোদের দিকে তাকানো তো দূরের কথা, বাইরে বের হলে মনে হচ্ছে কেউ গরম চুলার পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দুপুরের কড়া রোদে বগুড়া শহরের সাতমাথায় দাঁড়িয়ে ঘেমে-নেয়ে একাকার হওয়া রিকশাচালক করিম মন্ডল এভাবেই নিজের ক্ষোভ আর কষ্ট প্রকাশ করছিলেন।
গত ২৬ মে পর্যন্ত মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রার পারদ ৩৫ ডিগ্রির নিচে নামছে না বগুড়ায়। আজ রোববার (৩১ মে) সেই তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সংখ্যাটা শুনতে হয়তো খুব বেশি অস্বাভাবিক মনে নাও হতে পারে, কিন্তু বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং তীব্র ভ্যাপসা গরমের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা (হিট ইনডেক্স) ছাড়িয়ে গেছে ৪০ ডিগ্রির কোঠা। গত কয়েকদিন তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যা আজ এক চরম রূপ ধারণ করেছে। প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে, আকাশ থেকে রোদ নয় যেন আক্ষরিক অর্থেই আগুন ঝড়ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানান,তাপমাত্রার পারদ সহনীয় থাকলেও বাতাসে পানি যখন জলীয় বাষ্প হয়ে বাসা বাঁধে তখন মানুষ এবং প্রাণির গরমের কষ্ট বাড়ে। আবহাওয়ার এমনই নিয়ম। গত কয়েক দিন ধরে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বাতাস বইছে, তার সঙ্গে প্রচুর জলীয় বাষ্পও ঢুকছে। সারাদিন ধরে সূর্যের যে তাপ পড়ছে তা ধরে রাখছে জলীয় বাষ্প। ফলে গরমে অস্বস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গায়ে লাগছে। দরদর করে ঘাম হচ্ছে। ঘরে বাইরে স্বস্তি নেই। এতে করে পরিবেশে যে পরিমান তাপমাত্রা বিরাজ করছে তার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হয়ে হাঁসফাস উঠেছে জনজীবনে। এ অবস্থা চলবে আরও কয়েকদিন।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নূরুল ইসলাম জানান, আজ রোববার (৩১ মে) সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। বিকেল ৫ টায় ৫৬ শতাংশ। এ ছাড়াও বগুড়ায় আজ রোববার (৩১ মে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যদি কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকে, এমন অবস্থাকে তীব্র কষ্টকর দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের সময় আর্দ্রতা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত থাকলেও ঠান্ডা লাগে। কিন্তু গরমের সময় ৬০ শতাংশ আর্দ্রতায়ও প্রচন্ড গরম লাগে। কারণ, একে তো তাপমাত্রা বেশি থাকে, তার ওপর ঘাম না শুকানোয় গরম অনুভূত হয় আরও বেশি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170794