কাগজে-কলমে দাম বাড়লেও বগুড়ার বাজারে পানির দরে বিক্রি কোরবানির পশুর চামড়া

কাগজে-কলমে দাম বাড়লেও বগুড়ার বাজারে পানির দরে বিক্রি কোরবানির পশুর চামড়া

স্টাফ রিপোর্টার: সরকার এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বাজারগুলোতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে, প্রায় পানির দরে বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া। ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং চামড়া সংগ্রহকারীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঢাকার বাইরে গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং সারা দেশে খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সরকারি এই হিসাব অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম কমপক্ষে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা এবং পশুর চামড়ার আড়তগুলো ঘুরে দেখা যায়, বড় ও ভালো মানের একটি গরুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চামড়া ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি দামে কেউ কিনতে চাচ্ছেন না। সবচেয়ে করুণ দশা ছাগল ও ভেড়ার চামড়ার। বাজারে ছাগলের চামড়ার কোনো ক্রেতাই পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো এলাকায় মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা পিস দরে ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে।

চামড়া বিক্রি করতে আসা স্থানীয় এক মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে এতিম ও দুস্থ শিশুদের ভরণপোষণ করা হয়। কিন্তু এবার চামড়ার যে দাম, তাতে সংগ্রহ ও পরিবহন খরচই উঠছে না।”

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। তারা লবণের চড়া দাম, শ্রমিক খরচ ইত্যাদি অজুহাতে চামড়া অর্ধেক দামেও বিক্রি করা যায়নি। ফলে এবার বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের আগের বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। বাজারে তীব্র নগদ অর্থ বা তারল্য সংকট থাকায় তারা বেশি দামে চামড়া কিনতে পারছেন না।

চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিবছর সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধ এবং চামড়া বিপণনে সরকারি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

বগুড়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি জাহিদুর রহমান মুক্তা জানান, এবার বগুড়ায় চামড়া কম কেনা হয়েছে ৫০ হাজার পিসের বেশি চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা পর্যায় থেকে চামড়া কম এসেছে। ধারনা করা হচ্ছে  তারা লবন দিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন পলাশবাড়ি, নাটোর নওগাঁয় বড় বড় চামড়ার হাট হয় সেখানে চামড়া যেতে পারে। একারণে বগুড়ায় চামড়া সংগ্রহ কম হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170782