নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসেমের বিতর্কিত অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম। এর আগে, গতকাল শনিবার (৩০ মে) এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাসেমকে বলতে শোনা যায়, ‘সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন ২ হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন ১ হাজার টাকা, আরেকটা সালিশ কইরা ফেললেন ১ হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি’।
ওসি আরও বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’
এ সময় ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গুপ্ত গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্তু আমরা বুঝতেছি। এই যে সেইদিন মামলাটা হইলো নাহ, এখান থেকে টাকাপয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকাপয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানা কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নাই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলব না, কাউরে ঠকাবও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানল না। আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে ৯টা কইরা ফেললেন ১০টার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।’
তবে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসেমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এরকম কথোপকথন আমি শুনি নাই, আর এটা আমার কন্ঠ না। কে বা কারা যে কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে এটা তৈরি করেছে। আমি তাদের সঙ্গে এই ধরনের কোনো কথা বলিনি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170748