জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন : ডেপুটি স্পিকার

জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন : ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একজন সেনাপ্রধান বা রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘জন্মগত নেতা’। সততা, দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

শনিবার নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সামরিক জীবন থেকেই জিয়াউর রহমান অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে মাত্র ২০ থেকে ২২ বছর বয়সে একজন তরুণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যে বীরত্ব ও রণকৌশলের পরিচয় দিয়েছিলেন, তার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীরত্বপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত হন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটময় মুহূর্তে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন মেজর জিয়াউর রহমান নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং জাতিকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে ফিরে গেলেও দেশের ক্রান্তিলগ্নে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেন।

কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি নির্মাণে তার চিন্তাধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও সাদামাটা জীবনযাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া শার্ট তার ব্যক্তিগত সততা, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ বহন করে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকৃত রাজনীতি করতে হলে শহীদ জিয়ার জীবন, আদর্শ ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক ও দেশপ্রেমিক। তার আদর্শ ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170689