চামড়ার বাজারে ধস, হতাশ ব্যবসায়ীরা

চামড়ার বাজারে ধস, হতাশ ব্যবসায়ীরা

কোরবানির ঈদ পরবর্তী সময়ে পশুর চামড়া সংরক্ষণে শরীয়তপুরে চলছে লবণজাতকরণের ব্যস্ততা। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে সেই দামে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় গরুর চামড়া বর্তমানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ পাঁচ বছর আগেও একই চামড়া ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে খুচরা চামড়া সংগ্রহকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত খাসির চামড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা ও গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫২ থেকে ৫৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, কাগজে-কলমে দাম নির্ধারণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর কোনো নজরদারি নেই।

শরীয়তপুর পৌরসভার ঋষিপাড়া এলাকার একটি গোডাউনের সামনে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও লবণজাতকরণে অতিরিক্ত খরচ হলেও বিক্রির সময় ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, “চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু বাজারে দাম নেই। সরকার নির্ধারিত দামে যদি বিক্রি নিশ্চিত না হয়, তাহলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”
আরেক ব্যবসায়ী জানান, “আগে কোরবানির মৌসুমে চামড়া ব্যবসা লাভজনক ছিল। এখন লোকসানের ভয়ে অনেকেই চামড়া কিনতে চাইছেন না।”
ব্যবসায়ীরা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170637