বগুড়ার ধুনটে ল্যাম্পি স্কিন রোগে কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরুসহ মৃত্যু ৮, আক্রান্ত শতাধিক

বগুড়ার ধুনটে ল্যাম্পি স্কিন রোগে কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরুসহ মৃত্যু ৮, আক্রান্ত শতাধিক

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : ধুনট উপজেলায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি)। গত সাত দিনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুতবাড়ি গ্রামে অন্তত ৮টি গরু মারা গেছে। এরমধ্যে একটি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা ছিল। আরো আক্রান্ত রয়েছে শতাধিক গরু। কোরবানির ঈদের আগে গরুর অসুস্থতা নিয়ে চিন্তিত কৃষক ও খামারিরা।

আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার ভুতবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা  লক্ষাধীক টাকা মূল্যের একটি গরু মারা গেছে। এর তিনদিন আগে তার আরো একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। গত সাতদিনে একই গ্রামের কৃষক মোকবুল হোসেন, শহীদুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ, দুলাল হোসেনসহ আরো কয়েকজন কৃষকের ৮টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এরমধ্যে বাছুর গরুর সংখ্যাই বেশি। এছাড়া আক্রান্ত রয়েছে আরো শতাধিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫দিন ধরে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন এলাকায় গরুর লাম্পি স্কিন রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এরমধ্যে ওই এলাকার ভুতবাড়ি গ্রামের এ রোগ ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। ঈদ উপলক্ষে বন্ধ থাকায় এ রোগের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই তারা পল্লী চিকিৎসক, কবিরাজ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু তাদের দেওয়া ওষুধে কাজ হচ্ছে না বলে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এই রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে প্রথমে জ্বর দেখা দেয় এবং খাবারের রুচি কমে যায়। জ্বর বেশি হলে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়, পা ফুলে যায়। আক্রান্ত গরুর বুকের নিচে দুই পায়ের মাঝে পানি জমে। গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় গুটি গুটি ক্ষত হয়ে পচন ধরে। সেই সঙ্গে চামড়া থেকে লোম উঠে যায়। এই রোগে আক্রান্ত পশুর সুস্থ হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। বড় গরু তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও বাছুর গরু আক্রান্ত হলে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।

স্থানীয় বাজারের গবাদিপশুর ওষুধ বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিনই প্রচুর গরু পালনকারী এলএসডি রোগের ওষুধ নিতে আমার দোকানে এসে ভিড় করছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই রোগের এমনিতেই বেশ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তবে এবারের মতো এত বেশি আক্রান্ত হওয়া আর কখনো দেখিনি।

ধুনট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেহানা খাতুন বলেন, লাম্পি স্কিন রোগে গরুর মৃত্যু কিংবা আক্রান্ত হয়েছে এ খবর কেউ আমাকে জানাননি। আগামীকাল ওই এলাকায় গরুর ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ও তরল খাবার খাওয়াতে হয়। সাধারণত এই রোগে গরুর মৃত্যুঝুঁকি কম। তবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল, রোগা ও বাছুরের মৃত্যু হতে পারে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170349