ঈদের আর মাত্র ২ দিন বাকি এখনও জমে উঠেনি দা, বটি ছুরি’র বাজার 

ঈদের আর মাত্র ২ দিন বাকি এখনও জমে উঠেনি দা, বটি ছুরি’র বাজার 

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে উত্তরবঙ্গের প্রধান বাণিজ্যিক শহর বগুড়ায় পশুর হাটের পাশাপাশি যোগান বাড়াচ্ছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি ব্যববসায়ীরা। এরই মধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে  ঢিমে তালে চলা কামার বাড়িগুলো একটু যেন নড়েচরে বসেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নতুন নতুন দা বটি চাকু বানানোর টুংটাং শব্দে সরব হয়ে হয়েছে কামার ও কামারশালা।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির জন্য এবারের ঈদে অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন না। আবার যারা দিচ্ছেন তারাও কয়েকভাগে। আর এসব কারণেই এবার কামার শালায় নতুন ক্রেতা কম। তবে পুরনো দা, বটি চাকুতে ধার দিয়ে নিচ্ছেন  কোরবানিদাতারা। এছাড়াও অনেকেই সারাবছর অযত্নে অবহেলায় মরিচা পড়া বটি, দা ও চাকু ধার দিয়ে নিচ্ছেন ভ্রাম্যমান সানদাররা।

একসময়ের সারা বছর ব্যস্ত থাকা কামারশালাগুলো এখন অনেকটাই ম্রিয়মান হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন কোম্পানির ধাতব চাকু দা’র কাছে। শুধুমাত্র কোরবানি ঈদ এলেই প্রাণ ফিরে পান এই  শিল্পের সুনিপুন কারিগররা। সাথে  ব্যস্ততা বাড়ে এই পেশায় টিকে থাকা কামারদের।

সেই সাথে মৌসুমী বিক্রেতাদেরও। ঈদের দুই একদিন আগে শহরের রেলওয়ে ঘুমটির ওপর এবং চাঁদনি বাজার এলাকায় ক্রেতা বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে। শহরের যেসব স্থানে পুরোনা পদ্ধতির কামারশালা ছিল তা অনেকগুলো এখন আর নেই। তবে শহরের  মালতীনগর বকসিবাজার এলাকায় এখনও শ্যামল ও গৌর কর্মকারের কামাারশালা এখনও টিকে আছে।

শ্যামল ও গৌর কর্মকার জানান, সারা বছর তেমন একটা ভিড় থাকে না।  ঈদ এলেই ভিড়টা বাড়ে। এজন্য ব্যস্ততা বেশি হয়। দামের প্রসঙ্গে তারা জানান নতুন দা বটি ছুরির দাম কিছুটা বেড়েছে। কারণ লোহার দাম অনেক বেশি তাই। তবে পুরনো প্রতিটি দা আগুনে পুড়িয়ে পিটিয়ে সান দিতে একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকা, বড় ছুরি,বটি সানাতে ৫০ থেকে ২০০শ’ টাকা এবং অন্যান্য ছুরি সাইজ ভেদে ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় সানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এই ভিড় ঈদের আগের দিনের মধ্য রাত পর্যন্ত চলবে। শহরতলীর বেজোরা ব্রিজ এলাকার  হযরত আলী এসেছেন  একটি বড় কোরবানি করার ছুরি নিয়ে। বললেন, এই ছুড়ি দিয়ে অনেকগুলো কোরবানি করা হয়। তাই মুখ পড়ে গেছে। তাই পিটিয়ে নিতে এসেছেন। দাম  একটু বেশি হল্ওে এখানে কাজের ফিনিশিং ভালো।

জামিলনগরের তালতলা এলাকায় দুই পায়ে প্যাডেল মেরে শান দিয়ে যাচ্ছেন ইবারত। প্রতিটি দা বটি শান দিয়ে  নিচ্ছেন ৩০ টাকা। বাড়িরে ভেতর থেকে বটি এবং চাকু ধার দিতে নিয়ে এসছেন গৃহবধূ রোখসানা। বললেন, ‘সাত ভাগে কোরবানি দিচ্ছেন। বাড়ি আনার পর ভূড়ি সাফ করতে হবে। এবং বটি দিয়ে মাংস কাটতে হবে। এ্জন্য সান দিয়ে নিলাম। আবার আগামী বছর সান দিয়ে নিব।’

শহরের চাঁদনি বাজার এলাকায় রেডিমেট  ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে  ৬শ’ টাকায়। সাইজ অনুযায়ী  দা বিক্রি হচ্ছে  ৫শ’ টাকা থেকে  ১৫শ’ টাকায়। এখানকার দা, বটি ছুরি বিক্রির স্থায়ী দোকান দাররাও জানান প্রতি বছরের মত এবার এই শিল্পের লোকজন  খুব একটা ব্যবসা করতে পারবে না কারণ এবার  এখন পর্যন্ত মানুষ দোকানে খুব একটা ভিড়ছেন না। তবে তারা আশাবাদী ঈদের আগের দিন বেচাকেনা বাড়বে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170348