বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার গ্রামের মানুষের পেশায় ব্যাপক পরিবর্তন

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার গ্রামের মানুষের পেশায় ব্যাপক পরিবর্তন

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় বিভিন্ন কারণে গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পেশার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। উপজেলায় একসময় গ্রামের সাধারণ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল। শিল্পায়ন, নগরায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে উপজেলার গ্রামীণ পেশায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছ। দুপচাঁচিয়া উপজেলাসহ এর পার্শ্ববর্তী কাহালু ও আদমদীঘি এলাকায় বিভিন্ন শিল্পকারখানা স্থাপন হওয়ায় নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শত শত নারী-পুরুষ শিল্পকারখানায় কাজ করছে।

ফলে বাসা বাড়িতে কাজের মানুষ পাওয়া এখন দুষ্পাপ্য হয়ে দাড়িয়েছে। শহরের উন্নত জীবনের আকর্ষণে অনেকে গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস শুরু করেছেন। শহরেও পরিধিসীমা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি বগুড়া শহর পৌরসভা থেকে সিটিতে উন্নত হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটছে, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হচ্ছে-নতুন নতুন কর্মের সৃষ্টি হচ্ছে।

সুযোগ-সুবিধার ফলে গ্রামের মানুষ পৈতৃক পেশা ছেড়ে শহরের নতুন কর্মসংস্থানের অধিক মুনাফার আশায় শহরে ভিড় করছে। গ্রামেও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গ্রামীণ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অধিকাংশ পাকা হওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে অনেকেই ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালানোর কাজ করছে। গ্রামের বহু তরুণ ও যুবক পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যবাহী কৃষি পেশায় যুক্ত না হয়ে বিদেশে গিয়ে নতুন কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছে।

আবার প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন পেশায় কাজ করছে। অনেক প্রবাসী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মাছের খামার, নির্মাণসামগ্রীর দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে আবার পরিবহন ব্যবসা বা ছোটখাটো কারখানায় বিনিয়োগও করছে। এতে গ্রামাঞ্চলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ পেশায় পরিবর্তন এসছে। শিক্ষার বিস্তারের কারণেও গ্রামীণ পেশায় পরিবর্তন এসছে।

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আমষট্ট গ্রামের সহকারী অধ্যাপক মতিউর রহমান দেওয়ান পলাশ বলেন, শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সরকারি, বেসরকারি চাকরি করছে। শিক্ষিত যুবকদের উদ্যোগে কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কোচিং সেন্টার, কম্পিউটার সেন্টার স্থাপিত হয়ে অনেক কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করেছে।

গোবিন্দপুরের প্রভাষক শামছুজ্জামান সালাম বলেন, শিক্ষা বিস্তার, আর্থিক উন্নয়ন, গ্রামাঞ্চলে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি এবং তথ্য-প্রযুক্তি ও রাস্তা-ঘাটের উন্নতির কারণে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পেশা ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। গ্রামের মানুষ তাদের আদি পেশা ছেড়ে নতুন পেশায় যোগদান করেছে। আগামীতে এই পরিবর্তনের ধারা আরও বিস্তার করবে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170342