ঈদের আগেই ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করুন এই সহজ উপায়ে
ঈদ উপলক্ষে ঘর গোছানোর ব্যস্ততা আগেই শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঈদের আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করা শুধু প্রয়োজনই নয়, বরং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
ফ্রিজ পরিষ্কার না করলে ভেতরে জীবাণু ও দুর্গন্ধ জমে যেতে পারে, যা থেকে নানা ধরনের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে অল্প সময়েই ফ্রিজকে নতুনের মতো ঝকঝকে করে তোলা যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য খুব বেশি জিনিসের দরকার হয় না। নরম স্পঞ্জ, কুসুম গরম পানি, মাইল্ড ডিশ সোপ, পুরোনো টুথব্রাশ বা ছোট ব্রাশ, একটি তোয়ালে এবং পরিষ্কার শুকনো কাপড় হলেই যথেষ্ট। অবশ্যই উপকরণগুলো পরিষ্কার হতে হবে।
ফ্রিজ পরিষ্কারের ধাপসমূহ
প্রথমে ফ্রিজের ভেতরের সব খাবার বের করে নিন। এরপর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফ্রিজের সুইচ বন্ধ করে দিন, যাতে ভেতরের জমে থাকা বরফ ধীরে ধীরে গলে যায় এবং পরিষ্কার করা সহজ হয়। এরপর ফ্রিজের তাক ও ট্রেগুলো খুলে আলাদা করে নিন। এগুলো কখনোই সরাসরি গরম পানিতে ভিজাবেন না, কারণ হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্লাস্টিক বা কাঁচে ফাটল ধরতে পারে। কুসুম গরম পানিতেমাইল্ড ডিশ সোপ মিশিয়ে স্পঞ্জ দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার হয়ে গেলে সব অংশ আলাদা করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকাতে দিন।
ফ্রিজের ভেতর ও বাইরে পরিষ্কার
মাইল্ড ডিশ সোপ মেশানো পানি দিয়ে নরম স্পঞ্জ ভিজিয়ে ফ্রিজের ভেতরের অংশ ভালোভাবে মুছে নিন। এরপর পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে আবার মুছে ফেলুন, যাতে কোনো সাবানের অংশ না থাকে। সবশেষে শুকনো কাপড় দিয়ে পুরো ভেতরটা মুছে শুকিয়ে নিন।
দুর্গন্ধ দূর করা
ফ্রিজের বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে ভিনেগার মেশানো পানি ব্যবহার করতে পারেন। এতে দাগ সহজে উঠে যায় এবং জীবাণুও দূর হয়। দরজার রাবার অংশে সাধারণত বেশি ময়লা জমে, তাই সেখানে ব্রাশ ও ভিনেগার পানি ব্যবহার করে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ডিপ ফ্রিজ পরিষ্কার করতে মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়, কারণ এতে বরফ ও দুর্গন্ধ সহজে দূর হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখা খুব জরুরি। সাধারণ ফ্রিজে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ডিপ ফ্রিজে মাইনাস ১৮ ডিগ্রির নিচে রাখা উচিত।
খাবার সবসময় এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন, এতে গন্ধ ছড়ায় না। ফ্রিজ বারবার খুলবেন না, কারণ এতে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।
ফ্রিজ কখনোই অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না। এতে ঠান্ডা বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ফ্রিজকে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখুন।
ঈদের আগে ফ্রিজ পরিষ্কার রাখা শুধু ঘর সাজানোর অংশ নয়, বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। সামান্য যত্ন ও নিয়মিত পরিষ্কারেই আপনার ফ্রিজ থাকবে ঝকঝকে, দুর্গন্ধমুক্ত এবং ব্যবহার উপযোগী।
সূত্র: দ্য কিচেন, দ্য স্প্রুস
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170150