বগুড়ার শিবগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাটের ফলন লোকসানের শঙ্কায় কৃষক
শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে পাটের ফলন ব্যাহত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় অনেক জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, সেই শঙ্কায় পড়েছেন পাটচাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০ হেক্টর জমিতেই পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নিচু এলাকার বেশ কিছু জমি অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাটচাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতেই টানা বৃষ্টির কারণে পাটের বীজ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক কৃষককে একাধিকবার বীজ বপন করতে হয়েছে। পরে গাছ উঠলেও জমিতে পানি জমে থাকায় ঠিকমতো আগাছা পরিষ্কার করা যায়নি। মোকামতলা উপজেলার দেউলী কান্দুপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। তবে টানা বৃষ্টির কারণে দুইবার বীজ বপন করতে হয়েছে।
প্রথম দফায় বপন করা বীজ অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার নতুন করে বীজ বপন করেছি। কিন্তু দ্বিতীয়বার বীজ বপন করার পর পাটগাছ উঠলেও টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে নিড়ানি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দুইবার বীজ বপন করতে গিয়ে আমার দ্বিগুণ টাকা গুনতে হয়েছে। দুইবার হালচাষ, দুইবার বীজ কেনা এবং শ্রমিকের মজুরিসহ দুই বিঘা জমিতে এ পর্যন্ত আমার প্রায় ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপরও পাটগাছ কাটা ও ধোয়ার জন্য শ্রমিকের মজুরি দিতে হবে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তবে কয়েকদিন টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার জমিগুলো একটু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকরা সময়মতো নিড়ানি দিতে পারেনি।তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে আগাছা বেশি জন্মায় এবং জমিতে বাতাস চলাচল কমে যায়। তাই পাটগাছের স্বভাবিক বৃদ্ধি ধরে রাখতে কৃষকদের সময়মতো নিড়ানির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/170049