আগামী ৪ বছরে বদলে যাবে রংপুর চিড়িয়াখানা, পশুপাখি থাকবে উন্মুক্ত, খাঁচায় মানুষ

আগামী ৪ বছরে বদলে যাবে রংপুর চিড়িয়াখানা, পশুপাখি থাকবে উন্মুক্ত, খাঁচায় মানুষ

রংপুর জেলা প্রতিনিধি: রংপুর চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. বাবুল মিঞা। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি রংপুর চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে চিড়িয়াখানার কিউরেটরের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মপ্রধান (বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উইং) মো. আল-আমিন সরকার, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক (উপসচিব) পঙ্কজ ঘোষ, পরিকল্পনা বিভাগের (একনেক ও সমন্বয় অনু বিভাগ-এনইসি) উপপ্রধান (উপসচিব) মোসা. জেসমিন আরা, কার্যক্রম বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান সামিরুল ইসলাম জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম, ডা. মুহ. নাজমুল হুদাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরে অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, রংপুর চিড়িয়াখানা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিনোদন কেন্দ্র। এখানে পশুপাখিদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, রংপুর চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন বিষয়ে একটা প্রস্তাব ছিল রংপুর জেলা থেকে। সেই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পরিদর্শনে আসেন। আমরা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখেছি এখানে জিরাফের সেডে জিরাফ নেই, নীল গাই নেই এবং জেব্রা রয়েছে কিন্তু তার সঙ্গী নেই।

যে সমস্ত সেডে প্রাণী নেই তা আনা হবে। সাফারি পার্ক বা অন্যান্য চিড়িয়াখানায় যে প্রাণীগুলো অতিরিক্ত রয়েছে সেখান থেকে আমরা আনার ব্যবস্থা করতে পারি। আধুনিকায়ন বলতে কিছু রাস্তা তৈরি করা হবে। কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে তার জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থাকবে। রিক্রিয়েশনের আরও কিছু সেড তৈরি হবে। চিড়িয়াখানায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদসহ দর্শনার্থীবান্ধব আরও কিছু অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা আগামী ৪ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। এখানে আধুনিক সেড থাকবে এবং মানুষ খাঁচার ভেতরে থাকবে আর পশুপাখি বাহিরে থাকবে এ ধরণের একটা পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রায় ২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানাটিতে ৩১ প্রজাতির ২৪৯টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, বাঘ, জলহস্তী, হরিণ, অজগর সাপ, ইমুপাখি, উটপাখি, ময়ূর, বানর, হনুমান, কেশওয়ারি, গাধা, ঘোড়া উল্লেখযোগ্য।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/169937