রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তার বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সচিবালয়ে চলমান মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাজধানী মিরপুর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের বাসায় আসেন তিনি।

এসময় তিনি রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিহত শিশুটির স্বজনদের খোঁজখবর নেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতিও খোঁজ নেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ আরও অনেকেই।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার ঘটনা এবং দেশব্যাপী শিশু নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ফুসছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ তারকা ও মানবাধিকার কর্মীরা। বিচার দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সোচ্চার হয়েছে।

ইতিমধ্যে এই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেল আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্ধ্যায় তাকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ দুই আসামিকে আজ আদালতে হাজির করে। অজ্ঞাত আসামি পলাতক।

মামলার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে সোহেল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া প্রধান আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।

এদিকে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রামিসার দেহের ময়নাতদন্ত হয়। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনরা রামিসাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করেছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/169838