জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে অরক্ষিত রেলক্রেসিং যেন মৃত্যুর ফাঁদ  

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে অরক্ষিত রেলক্রেসিং যেন মৃত্যুর ফাঁদ  

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নে হলহলিয়া রেলওয়ে ব্রিজের সামনে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং যেন মৃত্যুর ফাঁদ। এই রেলক্রসিং স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রায় ৫৫ ডিগ্রি বাঁকানো এই রেললাইনে ট্রেনের উপস্থিতি আগে থেকে টের পাওয়া যায় না। ফলে প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এর আগেও এই স্থানে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে। এই ক্রসিং দিয়ে দিনে ১২টি ট্রেন গড়ে ২৪ বার যাওয়া-আসা করে। এর আগে মিজানুর রহমান নামে এক প্রবাসী হলহলিয়া রেলসেতুর পূর্বদিকে রাস্তা পারাপারের সময় চিলাহাটী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘চিলাহাটী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় ছিটকে রেললাইনের পাশে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, হলহলিয়া রেল ব্রিজের দক্ষিণ দিকে জাফরপুর রেলস্টেশনের দিকে রেললাইনটি বেঁকে গেছে। এই বিপজ্জনক বাঁকের কারণেই উত্তর দিক থেকে আসা ট্রেনগুলো একেবারে কাছে না আসা পর্যন্ত দেখা যায় না। রেললাইনের  দুই পাশে  শ্রীরামপুর ও হলহলিয়া  কয়েকটি গ্রাম। ওই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই গেটবিহীন রাস্তা দিয়ে শুধু দুই গ্রাম না রাস্তাটি পাকা হওয়ায় আক্কেলপুর হয়ে তিলকপুর অভিমুখি হাজার মানুষ এই মরণফাঁদ দিয়ে চলাফেরা করেন। হলহলিয়া রেল ব্রিজটি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে এখানে শতশত মানুষের ভিড় জমে। পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য এটি যাতায়াতের অন্যতম রাস্তা। যাতায়াতকারী ও পর্যটকরা বলছেন, ট্রেনের ইঞ্জিনের শব্দ বাঁকে বাধা পেয়ে দিকভ্রান্ত করে দেয়, ফলে ট্রেন ঠিক কখন ব্রিজের ওপর চলে আসে তা বোঝা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পয়েন্টে কোনো গেটম্যান ও গেট নেই। এলাকার শিক্ষার্থীরা এবং কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যাওয়া সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকেন।

আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রাজ্জাক  বলেন, হলহলিয়া ব্রিজের উত্তর পাশে অরক্ষিত রেলক্রসিং এ যেকোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় লোকজন স্টেশনে এসে অভিযোগ করেন। বিভাগীয় প্রকৌশলী পাকশী-২ নাজিব কাউসার বলেন, এই পথে প্রায় ৭শ’টি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। যেখানে-সেখানে চালু করা রেলক্রেসিংগুলো বৈধ না কি অবৈধ তা যাচাই করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে আবেদন করা হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/169590