একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি
স্বপ্না তার মামার বাড়ি থেকে একটা বিড়াল ছানা এনেছিল। ছানাটি দেখতে খুবই সুন্দর। আদর করে তার নাম রেখেছিল খুশি। সে সারাক্ষণ স্বপ্নার পিছনে ঘুরঘুর করে। স্বপ্নার তাকে খাবার দিত এবং রাতে স্বপ্নার ঘরে গিয়ে খুশি তার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ত ।
স্বপ্নার মা আনু, এতে খুব বিরক্ত বোধ করতেন। তিনি একদিন বললেন, বিড়াল ছানাটিকে অন্যত্র শোবার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। কিন্তু স্বপ্না তাতে রাজি হলো না।
স্বপ্নাকে তার মা, একটু ধমক দিলেন। এবং খুশির জন্য বাড়ির বারান্দায় বিছানা গুছিয়ে রাখলেন। তাতে স্বপ্নার খুব রাগ হল। মায়ের ঘটনাটা খুশিকেও খুবই ব্যথিত করে তুলল।
তবুও খুশি কিছু মনে না করে, প্রতিদিনের মতো স্বপ্নার বিছানায় শুতে গেল।
স্বপ্না বলল, চুপচাপ শুয়ে পড় খুশি? হঠাৎ স্বপ্নার মা এসে খুশিকে তুলে নিয়ে বারান্দায় শুতে দিল। খুশি জানত স্বপ্নার মা, তাকে অতটা ভালবাসে না। অতএব এখানে থাকাটা নিরাপদ নয়। ঐ রাতেই খুশি অন্যত্র চলে গেল। পরদিন সকালে স্বপ্না ঘুম থেকে উঠে খুশিকে কোথাও দেখতে পেল না। স্বপ্নার মনটা খুব খারাপ হল।
আজকে সে হাত মুখ ধুলো না, পড়তে বসল না।স্বপ্নার বাবা, পল্লব সাহেব এসে বললেন, খুশি হয়তোবা কোথাও একটু ঘুরতে গেছে, ঠিক আসবে। মা তুমি, হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসো। স্বপ্না, তার বাবার কথার কোন উত্তর দিল না। সকাল পেরিয়ে দুপুর হলো, তারপর সন্ধ্যা নামলো অথচ খুশির আসার কোন লক্ষণ নেই। দু’দিন পেরিয়ে গেল, খুশি তবুও বাড়ি ফিরে এলো না। স্বপ্নার মা মেয়ের হাবভাব দেখে ভীষণ পেয়েছে। মনে মনে ভীষণ অনুতপ্ত হচ্ছেন। কেনই বা তিনি বিড়াল ছানাটিকে বাইরে শুতে দিয়েছিলেন। স্বপ্না বলল, খুশি আর আমাদের বাড়ি কখনো ফিরে আসবে না।
পল্লব কোন উপায়ান্তর না পেয়ে একটা ভ্যানে মাইক লাগিয়ে সারা গায়ে খুশি হারিয়ে যাওয়া এবং সন্ধান দাতাকে দশ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষনা করলেন। খুশির আকার আকৃতি, রং গঠন সব কিছুই মাইকে ঘোষণা দেওয়া হল। ঘোষণার পর বিকেল হতে না হতেই, এক এক জন লোক আসতে শুরু করল। সবার কোলে একটা বিড়ালের ছানা।
বিড়াল ছানাগুলোর গায়ের রং, শারীরিক গঠন মুখমণ্ডলের আকৃতি কোথাও অমিলের লক্ষণ ধরা পড়লো না।
দেখতে দেখতে একশোর বেশি একই রং ও গঠনের বিড়ালের ছানা নিয়ে অনেক মানুষ এসে হাজির হল।
সারা বাড়ি জুড়ে একটা হৈ হুল্লোড় পড়ে গেল।
শেষ পর্যন্ত মাইকিং বন্ধ করতে লোক পাঠানো হল। মুহূর্তেই সারা বাড়িতে যেন একটা হাট বসে গেল। সকলেই দশ হাজার টাকার অফার টি নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সবারই দৃঢ় বিশ্বাস তার বিড়াল ছানাটি নিশ্চয়ই হারিয়ে যাওয়া খুশি হবে। একশোর অধিক বিড়াল ছানার মিঁউ মিঁউ শব্দে সারা বাড়িতে তুফান চলছে।
অবশেষে চারজন বিচারককে খুশিকে শনাক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হল। বিচারক প্রতিটি বিড়াল ছানাকে নেড়েচেড়ে নিখুঁত ভাবে পরখ করতে লাগলেন।
মাইকিং করা বিবরণ অনুযায়ী হারিয়ে যাওয়া খুশির সাথে সব ছানাগুলোর হুবহু মিল পাওয়া যায়। কোথাও এক তিল পরিমাণ অমিল খুঁজে পাওয়া গেল না।
অবশেষে চারজন বিচারকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেই -এটাই উপনীত হল যে; এখানে আসা সব বিড়ালের ছানাগুলো সকলেই খুশির অনুরূপ!
বিচারকগণ, পল্লব শেখকে ডেকে বললেন: এখানে যত মানুষ বিড়ালের ছানা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের সব ছানাগুলো রেখে দিতে। কেননা এখানকার সকল বিড়ালদের মধ্যেই খুশির জিনগত মিল পাওয়া গেছে।
সেই সাথে এখানে উপস্থিত প্রত্যেক মানুষের হাতে দশ হাজার টাকা করে পুরস্কার তুলে দিতে বললেন?
বিচারকদের রায় ঘোষণার পর পল্লব শেখের মাথায় যেন বজ্রাঘাত পড়ল।
সেই সাথে উপস্থিত সকল মানুষজন মহা আনন্দে উল্লাস করতে লাগল।
বিড়ালের ছানাগুলো কে সবাই পল্লবের সামনে ছেড়ে দিল।
এবং তারা তাদের প্রাপ্য পুরস্কার নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে রইল।
বিড়াল ছানাগুলো ছোটাছুটি করতে করতে পল্লব শেখের সারা বাড়ি ঘরে প্রবেশ করে মিঁউ মিঁউ শব্দে প্রকম্পিত করে তুলল।
কোন উপায়ান্তর না পেয়ে পল্লব শেখ, তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘরের পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেন।