লাখো মানুষের পদচারণায় বগুড়ার মহাস্থানে পালিত হলো বৈশাখী উৎসব
শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বৈশাখী উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। গত বছরের মতো এবারও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমজমাট উৎসব উদযাপন হয়। অলি হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) ইতিহাসকে স্মরণ করে প্রতি বৎসর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এখানে বিনাপ্রচারণায়, বিনাদাওয়াতে একদিন এক রাতের জন্য বিশাল মিলনমেলায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। হযরত শাহ সুলতান ও পশুরামের ইতিহাসকে ঘিরে প্রতি বৎসর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এই উৎসব উদ্যাপিত হয়ে থাকে। প্রতি বছর মেলার দিনটিতে এখানে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়া না হওয়ায় সন্ধ্যার পর লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে। সাধু-সন্ন্যাসীদের শরিয়ত, মারিফত ও বাউল সঙ্গীত ও তাদের আগমনে মুখরিত হয়েছে মাজার ও এর আশেপাশের এলাকা।
এ দিকে এ উৎসবকে ঘিরে মাজার এলাকায় গাঁজা সেবনকারীদের উপস্থিতি এবারও কমতি ছিল না। তবে তারা প্রতি বছরের মতো এবার মাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করতে পারেননি। তবে কেউ কেউ সামান্য দূরে মাজার এলাকার বাহিরে অবস্থান নিয়ে গাঁজা সেবন করেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মেলায় ঘুরে দেখা যায়, মাজারসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে জটাধারী বাউল ও ফকির সন্যাসিরা দল বেঁধে গান গাইছেন। মারফতি, জারি, সারি ও মুর্শিদি গানের আসরে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ অস্থায়ী আস্তানা গেড়ে কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছেন সেখানে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় আসা হাবিবুর রহমান হাবিব ফকির বলেন, গুরুকে ভক্তি জানাতে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য আমরা দল বেঁধে এখানে এসেছি। এই উৎসবে ভারত থেকেও সাধু-সন্ন্যাসীরা এসেছেন। এছাড়া সারাদেশ থেকেও এসেছেন।
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে কেনাবেচাও। খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, মিষ্টি, গৃহস্থালি পণ্য ও লোকজ সামগ্রীর দোকান বসেছে সারি সারি। শিশুদের কোলাহল আর মানুষের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মহাস্থান এলাকা। এই উৎসবকে ঘিরে একদিনে মহাস্থানে কয়েক কোটি টাকার কটকটি কেনাবেচা হয়। এ দিনকে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার জন্য উপজেলা, থানা ও মাজার মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাতব্যাপী নফল ইবাদতের জন্য মসজিদে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুজ্জামান শাহীনের সাথে কথা বললে তারা জানান, এদিনকে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার জন্য কোন প্রকার মাদক সেবন, বিক্রি, লটারির নামে কোন জুয়া, অশ্লিলতা হতে দেওয়া হয়নি। মাজার এলাকার পবিত্রতা রক্ষার জন্য পাঁচ শতাধিক পোশাকে ও সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সদস্যরা মাজার এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় টহল জোরদার করেছে।
মাজার মসজিদের যুগ্ম সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম জানান, মাজারে আগত মুসল্লিরা যেন নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে জিকির-আজগর, নফল নামাজসহ বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় কাজ ও ইবাদত করতে পারেন তার জন্য আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168982