সেকেন্ড হ্যান্ড এসি কেনার আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন
প্রচণ্ড গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফার্বিশড এসির দিকে। নতুন এসির তুলনায় দাম কম হওয়ায় মধ্যবিত্তের কাছে এগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে শুধু কম দাম দেখেই পুরোনো এসি কিনলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন নিজের ঘরেই। কারণ ঠিকমতো পরীক্ষা না করা এসি থেকে ঘটতে পারে শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড এমনকি বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনাও। তাই ব্যবহারের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই জেনে রাখা দরকার।
কেন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে পুরোনো এসি?
একটি এসি দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর তার ভেতরের যন্ত্রাংশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কম্প্রেসর যদি ঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে সেটি অতিরিক্ত গরম হতে শুরু করে। আবার অনেক সময় নিম্নমানের গ্যাস বা ভুলভাবে রিফিল করা রেফ্রিজারেন্ট এসির ভেতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। এতে যন্ত্রের ক্ষতি তো হয়ই, চরম ক্ষেত্রে বিস্ফোরণের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
শুধু তাই নয়, পুরোনো এসির বৈদ্যুতিক সংযোগও বড় ঝুঁকির কারণ। তার আলগা হয়ে যাওয়া, নিম্নমানের প্লাগ বা এক্সটেনশন ব্যবহার করা এবং দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা ফিল্টার মেশিনের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। ফলে শর্ট সার্কিট বা আগুন লাগার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
পুরোনো এসি ব্যবহারের সময় কিছু লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন-
1. এসি থেকে পোড়া গন্ধ বের হওয়া
2. অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত শব্দ হওয়া
3. ঘন ঘন এমসিবি ট্রিপ করা
4. এসির বডি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া
5. গ্যাস লিকের হিসহিস শব্দ বা অদ্ভুত গন্ধ পাওয়া
এ ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত এসি বন্ধ করে টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া উচিত।
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য যা করবেন
সেকেন্ড হ্যান্ড এসি কিনলে প্রথমেই দক্ষ ও অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে পুরো মেশিন পরীক্ষা করিয়ে নিন। কম দামের লোভে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করে জেনুইন পার্টস ব্যবহারে গুরুত্ব দিন।
ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে সুরক্ষার জন্য ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করানোও প্রয়োজন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় টানা এসি চালিয়ে না রাখা। অতিরিক্ত গরমে অনেকেই ১৫-২০ ঘণ্টা একটানা এসি চালান, যা মেশিনকে দ্রুত ওভারহিট করে ফেলে। তাই মাঝেমধ্যে এসিকে কিছুটা বিশ্রাম দিন। মনে রাখবেন, সামান্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সচেতন থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168791