বগুড়ার শাজাহানপুরে টেংগামাগুরে অনুষ্ঠিত হলো শীতলা বুড়িপুজার মেলা, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

বগুড়ার শাজাহানপুরে টেংগামাগুরে অনুষ্ঠিত হলো শীতলা বুড়িপুজার মেলা, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ভক্তের প্রণাম, শ্রদ্ধার্ঘ্য, পুজা-অর্চণা, মানসা ও পাঠাবলীর মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার (১২ মে) বগুড়ার শাজাহানপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী টেংগামাগুর শীতলাবুড়ি পুজার মেলা। প্রায় দেড়শ’ বছর যাবত হয়ে আসছে বুড়িপুজা। পুজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবার টেংগামাগুর নামক স্থানে বসছে মেলা।

গতকাল সোমবার বিকেল থেকেই মন্দিরের আশপাশে মেলার দোকানপাট বসা শুরু হয়। লিচু, আম, তরমুজ, বাঙ্গি, জামরুলসহ গ্রীষ্মের ফল এ মেলার বিশেষ আকর্ষণ। মেলায় হরেকরকমের খেলনা কেনা ও নাগর দোলাসহ নানা রকম রাইডে চড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিশুরা। মেলায় কাঠের আসবাবপত্র, লোহার সামগ্রী, বাঁশ-বেতের জিনিসপত্রও কেনেন স্থানীয়রা।

সব মিলিয়ে এ এলাকার মানুষদের অন্যতম উৎসব টেংগামাগুর মেলা। মেলাকে ঘিরে নাইওরিতে ভরে ওঠে প্রতিটি বাড়ি। শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল, খন্ডক্ষেত্র, খরনা ইউনিয়নের টেংগামাগুর, তিতখুর, দারিগাছা, মানিকদিপা, বীরগ্রাম, খরনা নাথপাড়া, কর্মকার পাড়া ছাড়াও শাজাহানপুর উপজেলার পার্শ্ববতী শেরপুর, নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্ত টেংগামাগুর শীতলা বুড়িমাতা মন্দিরে সমবেত হন।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা চলে পুজা-অর্চণা, ভক্তি নিবেদন। পাঠাবলী করা হয় বিকাল ৫টার পর। পাঠার গোশতে রান্না প্রসাদ বিতরণ করা হয় ভক্তবৃন্দের মাঝে। আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় বুড়ি পুজার সকল আয়োজন।

অপরদিকে টেংগামাগুর মেলার মাছ-মাংস, মন্ডা-মিঠাই, তরমুজ, লিচু, আম, বাঙ্গি এসব দিয়ে চলে নাইওরি আপ্যায়ন। জামাইয়েরা মেলা থেকে বড় মাছ নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যান। বর্তমানে শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল, খন্ডক্ষেত্র, খরনা ইউনিয়নের টেংগামাগুর, দারিগাছা, মানিকদিপা, বীরগ্রাম, খরনা নাথপাড়া, কর্মকার পাড়াসহ মোট ৮ পাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে শীতলা বুড়িমাতা পুজা উদ্যাপন কমিটি নামের একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবার বুড়িমাতা পুজার আয়োজন করে আসছে।

মেলার ইজারাদার সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বুড়িমাতা পুজা ও মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে মেলার ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা বলেন, আম লিচু, তরমুজসহ বিভিন্ন ফলের দোকান থেকে ইজারা বাবদ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ তারা মেলাতে ফল বিক্রি করে দুই হাজার টাকা লাভই করতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168712