শাপলা গণহত্যার পর জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে জুলাই হতো না: নাহিদ

শাপলা গণহত্যার পর জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে জুলাই হতো না: নাহিদ

শাপলা গণহত্যার পর তৎকালীন সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা গেলে জুলাই গণহত্যা হতো না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শাপলা গণহত্যার পর ফ্যাসিস্ট সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‌‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ক্ষত তৈরি করেছে শাপলা গণহত্যা। এই গণহত্যা ঠেকাতে পারলে জুলাই গণহত্যা হতো না। সে সময় জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারলে জুলাই গণহত্যা করার সাহস পেত না ফ্যাসিস্ট সরকার।

সে সময় রাজনৈতিক লড়াইয়ের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ছিল উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে বিএনপির ভূমিকা কেমন ছিল, তাও এ সময়ে এসে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। তাদের উচিত ছিল, আরও সাহসী ভূমিকা রাখা। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে এ হত্যা এড়ানো যেত।
 
ওই ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে গলমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ। তিনি বলেন, সে সময় দৈনিক পত্রিকাগুলো কী রিপোর্ট করেছিল, সেটা আমরা ভুলে যাইনি। সে ডকুমেন্টগুলো এখনো আছে। যারা ভিকটিম, তাদের অপরাধী হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
 
মাদ্রাসা ছাত্রদের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রদের জঙ্গি হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরোতে হবে। ঢালাওভাবে মাদ্রাসার ছাত্রদের জঙ্গি হিসেবে দেখাকে আমরা অ্যালাও করবো না। যে রাজনীতি শেখ হাসিনা সরকার করেছিল, সে রাজনীতি এখনের সরকার যেন না করে।
 
তিনি বলেন, এ দেশের সব মুক্তির লড়াইয়ে মাদ্রাসার ছাত্র ও আলেম ওলামাদেরও অবদান রয়েছে। বিচার বহির্ভূত সব হত্যার বিচার চেয়ে নাহিদ বলেন, বিচার বহির্ভূভূত সব হত্যাকাণ্ড, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, সবকিছুর বিচার করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।
 
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, এখন আবার সীমান্তে কাঁটাতার দেয়ার কথা বলা হচ্ছে, সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। সীমান্তে যারা হত্যা করে, কাঁটাতার দেয়, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্ভব না। এ কাঁটাতার সে দেশের মানুষই উপড়ে ফেলে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে।
 
এ সময় সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব সরকারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই এ দায়িত্ব নেবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168640