নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১০০

নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যের একটি জনাকীর্ণ বাজারে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে। হামলার এই ঘটনায় অবিলম্বে তদন্ত শুরুর জন্য নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
 
স্থানীয়রা বলছেন, রোববার জামফারার জুরমি জেলার দুর্গম তুমফা বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী। এক মাসের ব্যবধানে উত্তর নাইজেরিয়ার জনাকীর্ণ ওই বাজারে দ্বিতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, হামলায় আহত কয়েক ডজন মানুষকে জুরমি ও নিকটবর্তী শিনকাফি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

তবে হামলার বিষয়ে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যদিও এর আগে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দেশটির সেনাবাহিনী বলেছিল, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেবল জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি বলেছে, রোববার দুপুরের দিকে ওই এলাকায় একাধিক সামরিক বিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সব বিমান পুনরায় ফিরে এসে জনাকীর্ণ বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়।

এর আগে, গত এপ্রিলে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার জিলি এলাকায় সাপ্তাহিক এক বাজারে একই ধরনের বিমান হামলায় অন্তত ২০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। দেশটির সেনাবাহিনী বর্তমানে ওই হামলার ঘটনার তদন্ত করছে।

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান ও বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র দস্যু বাহিনী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত ১৭ বছর ধরে চলা ইসলামি বিদ্রোহ দমনে লড়াই করছে।

গত বছর বড়দিনে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামি উগ্রপন্থীদের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলার পরই ওই হামলা চালায় মার্কিন সেনাবাহিনী।

অ্যামনেস্টি বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সশস্ত্র বিদ্রোহী, দস্যু এবং সামরিক বাহিনী—সব পক্ষের নৃশংসতার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রামবাসীদের। এই বিমান হামলাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র: রয়টার্স।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168630