নওগাঁর রাণীনগরের রক্তদহ বিল খননের উদ্যোগে খুশি এলাকার মানুষ

নওগাঁর রাণীনগরের রক্তদহ বিল খননের উদ্যোগে খুশি এলাকার মানুষ

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ইতিহাস ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যের ভরা এক অনন্য নিদর্শনের নাম রক্তদহ বিল। প্রায় ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই বিলের বেশিরভাগ অংশ নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলায়। আর বাকি অংশ বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলায়। এই বিলে প্রায় ৩ মাস পানি থাকে।

ইতিহাসবিদদের অভিমত ১৭ শতাব্দীর শেষের দিকে ফকির মজনুশাহ আদমদীঘি উপজেলার আশপাশ এলাকায় ইংরেজদের দোসর জমিদারদের হাত থেকে প্রজাদের বাঁচানোর তৎপরতা শুরু করেন। সেই সময় প্রজারা জমিদার ও ইংরেজ শাসক দ্বারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতো। সেই সাথে জমির খাজনা পরিশোধ করতে সর্বস্বান্ত হতো।

এমন ভাবে প্রজাদেরকে শোসন করার চুড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছে ঠিক সেই সময় ১৭৮৬ সালে এই জনপদে অস্ত্রধারী সন্ন্যাসী ও ফকিরদের সাথে নিয়ে ফকির মজনুশাহ’র আগমন ঘটে। প্রজাদের পক্ষ হয়ে প্রতিবাদের এক পর্যায়ে জমিদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরী ভয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গিয়ে ময়মনসিংহে আশ্রয় নেয়।

পরে তিনি এদেরকে দমন করার জন্য সেনানায়ক লেফট্যেনান্ট আইনস্টাইন নেতৃত্বে বড় আকারের বাহিনী রক্তদহ বিলে প্রেরণ করে মজনুশাহ’র বাহিনীর সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ বাধে। সেই সময় অনেক লোক হতাহতের কারণে বিলের পানি রক্তে লাল হয়ে যায়। সেই থেকে এই বিলের নামকরণ করা হয় রক্তদহ বিল। এই বিলে প্রকৃতির ভাণ্ডারে ভরা। বিশেষ করে নানা জাতের দেশি প্রজাতির মাছের সুখ্যাতি এখনও দেশজুড়ে।

মৎস্য সম্পদের নিরাপদ প্রজনন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষে বিশেষ এলাকা জুড়ে মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিল দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার কিম্বা খনন কাজ না করায় দিন দিন ভরাট হয়ে তার প্রাণ হারাচ্ছে এই বিল। অপরদিকে হুমকীর মুখে পড়ছে জীব ও বৈচিত্র্য। একই সাথে হারিয়ে গেছে বিলের উজানে থাকা প্রায় ২২টির মতো খাল। রক্তদহ বিল এবং খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ায় বিল পাড়ের মানুষ এখন বেজায় খুশি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168559