শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর সিদ্ধান্ত

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) কার্যকর এবং সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছে নতুন সরকার।

আজ সোমবার (১১ মে) রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নীতিশ প্রামাণিক। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আমলারা বৈঠকে অংশ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, নতুন সরকার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবে। তিনি জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস বদলে গেছে এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যেই সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই এই প্রকল্পে রাজ্যের মানুষকে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া নতুন সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস কার্যকর হবে। আগের সরকার এটি বাস্তবায়ন করেনি বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্যও বড় ঘোষণা এসেছে বৈঠক থেকে। দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন নিয়োগে আবেদনকারীদের বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত বড় কোনো নিয়োগ হয়নি। তাই চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগও পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকার রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে পাঠাত না। এখন থেকে সেই বাধা থাকবে না।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168460