বগুড়ার খামারে খামারে প্রস্তুত কুরবানির পশু, ভালো দামের আশায় খামারিরা
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার খামারে খামারে এবং কৃষকের উঠানে প্রস্তুত কুরবানির পশু। গো-খাদ্যের বাজার কয়েক বছর ধরে স্থিতিশীল থাকায় ভালো দামের আশায় খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক বছর ধরেই বগুড়ায় চাহিদার তুলনায় কুরবানির পশু বেশি প্রস্তুত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বগুড়া সূত্রে জানা গেছে, এবারের কুরবানির জন্য জেলার মোট ৫১ হাজার ৭৪৬ জন খামারি তাদের পশু প্রস্তুত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৬শ’ জন বেশি। গত বছর কুরবানির জন্য পশু প্রস্তুত ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি, আর এবার প্রস্তুত করা হয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু। গত বছরের তুলনায় এবার কুরবানির পশুর চাহিদা কমায় প্রস্তুতকৃত পশুর পরিমাণ কমেছে ৬ হাজার ৩০৫টি। গত বছর পশুর চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ২৬০টি।
তবে এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টিতে। গত বছরের তুলনায় চাহিদা কমেছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০টি পশুর। কুরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে-১ লাখ ৯৩ হাজার ৯০৪টি, বলদ ৪২ হাজার ৩২৮টি, গাভী ৬৩ হাজার ৫৫২টিসহ মোট গরুর পরিমাণ ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৪টি। এছাড়াও মহিষ রয়েছে ২ হাজার ১৫৫টি, ছাগল রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি এবং ভেড়া রয়েছে ৫৪ হাজার ২৯টি।
বগুড়া সদরের শ্যামবাড়িয়া এলাকার খামারি আনিছার রহমান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম বাড়েনি। মাঝে কিছুটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও তা আবার কমতে শুরু করে, সবমিলে দাম স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ গত বছরের মতই। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কুরবানির বাজার কিছুটা বেশি।
আরেক খামারি সাজেদুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরেই তিনি কুরবানির জন্য গরু লালন-পালন করে আসছেন। চাহিদার কথা মাথায় রেখে খামারের সবগুলো গরুই দেশি প্রজাতির এবং আকারও ছোট থেকে মাঝারি। এই খামারি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই মাংসের বাজার চড়া, সেই হিসেবে এবার কুরবানির গরুর দাম গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করছি।
গো-খাদ্য বিক্রেতা রনি ইসলাম বলেন, বিগত এক বছরের বেশি হলো গো-খাদ্যের দাম স্থিতিশীল। তিনি বলেন, ধানের কুড়া প্রতি কেজি ১৪ থেকে ১৫ টাকা, ৩৭ কেজির ভুষি (মোটা) প্রতি বস্তা ১ হাজার ৬৩০ এবং ৫৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা চিকন ভুষি ২ হাজার ৪৮০ টাকা, খৈল প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৫ টাকা এবং চালের কুড়া প্রতি কেজি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। তবে খড় গত বছর প্রতি আঁটি ৯ টাকায় বিক্রি হলেও এবার দাম কমে ৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
গরু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার কুরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা তাদের বাড়িতে গরু প্রতিপালন করেন। লাভজনক হওয়ায় এর পরিমাণ বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় গো-খাদ্যসহ পশু প্রতিপালনে সবকিছুর দাম স্থিতিশীল থাকায় কুরবানিদাতার স্বস্তি নিয়ে পশু কিনতে পারবেন।
দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিভিন্ন আকারের গরু প্রতি দাম বেশি হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, মাংসের দাম বেশি হওয়ায় কম দামে কেউ কুরবানির পশু বিক্রি করতে চাইবে না, ফলে দাম এবার একটু বেশি হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/168274