প্রতিমাসে বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১০ জন করে প্রাণ হারায়

প্রতিমাসে বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১০ জন করে প্রাণ হারায়

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিদিন সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মৃত্যু এখন প্রতিদিনের সংবাদ শিরোনাম। টেলিভিশনে খবর দেখলে কিংবা পত্রিকার পাতা খুললে সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখে বিষন্ন হওয়া ছাড়া উপায় নেই। প্রতিদিনই সারাদেশে সড়কে প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। এই ধারাবাহিকতায় বগুড়াতেও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। নিভে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। চলতি বছর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে বগুড়া জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪৯ জন।

এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ জন, মার্চ মাসে ১৪ জন ও এপ্রিল মাসে ১২ জন নিহত হন। এছাড়া এর আগে ২০২৫ সালে এক বছরে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে আরো ১২০ জন মানুষ। এ নিয়ে গত ১৬ মাসে জেলায় সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ১৬৯ জন।

এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতিমাসে গড়ে বগুড়ায় ১০ জনেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। নিহতদের মধ্যে একটি উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থী। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে নিহত হচ্ছে।

আজ সোমবার (৪ মে) জেলা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনার কারনে গত ১৬ মাসে বগুড়া সদর থানায় ৩৪ টি, শাজাহানপুর থানায় ২৯টি, শিবগঞ্জ  থানায় ২১টি, সোনাতলা থানায় ৬টি, গাবতলি থানায় ৪টি,সারিয়াকান্দি থানায় ১টি, আদমদিঘী থানায় ৫টি, দুপচাঁচিয়া থানায় ৪টি, নন্দীগ্রাম থানায় ১৬টি, কাহালু থানায় ৮টি, শেরপুর থানায় ৩১টি ও ধুনট থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এনিয়ে মোট ১৬০টি  সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬৯ জন মারা গেছে।

তবে বিশ্লেষকরা বলেন, বগুড়ায় সড়কে মৃত্যুর ঘটনা আরো বেশি। সব তথ্যই পুলিশ পায়না। অনেক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ ম্রাা গেলেও তা পুলিশকে জানানো হয়না। পুলিশকে জানালে আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে যেতে হয়।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এই কারনে স্বজনরা পুলিশকে সব সময় জানায় না। অনেক সময় স্বজনরা আইনি ঝামেলা এড়াতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানাতে চায় না। স্বজনরা পুলিশকে না জানিয়েই লাশ দাফন করে ফেলে। এ জন্য সব সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়না।

বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ টিআই (প্রশাসন) মো: সালেকুজ্জামান খাঁন বলেন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলো হলো, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন,গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, হেলমেট ব্যবহার না করে বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালানো, বাস ও ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক আইন না মানা,  চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা ও পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা, যেখানে যেখানে যাত্রী ওঠানামা করাসহ নানাবিধ কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন.ট্রাফিক আইন মানলে এবং এ ব্যাপারে গণসচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দরকার। গণমাধ্যম, সুধীসমাজ, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, ছাত্রসমাজ, যাত্রী, চালক,পথচারীসহ রাষ্ট্রের জনগণকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। গণ সচেতনতা বাড়াতে হবে। গণ সচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর বগুড়া জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মাছুদার রহমান হেলাল বলেন, অদক্ষ চালক,ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার না করা, মহাসড়কে সিএনজি চালিত আটোরিকশা ও মোটরসাইকেল গুলোর চালকদের লিংক রোড় বা পার্শ্বরোড ব্যবহার না করা, কার আগে, কে যাবে মহাসড়কে এই প্রতিযোগিতা, ওভারক্রসিং, অতিরিক্ত গতি ট্রাফিক আইন অমান্য করা, বিপজ্জনকভাবে বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এব্যাপারে গণসেচেতনতা বাড়াতে হবে। গণসচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/167703