সাতক্ষীরার উন্নয়ন ইস্যুতে ১৬ দফা দাবি
টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ সংরক্ষণের দাবিতে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের উদ্যোগে জেলার তরুণরা ঢাকায় মানববন্ধন করেছে। এসময় সাতক্ষীরার উন্নয়নের লক্ষ্যে ঘোষিত ১৬ দফা দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তারা।
আজ শনিবার (২ মে) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরার উন্নয়নকে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তরুণরা। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এই জেলাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বলে তারা উল্লেখ করে তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সাতক্ষীরাকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
এসময় ১৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-১. সুন্দরবন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন: বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রতীক সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণে একটি বিশেষায়িত কর্তৃপক্ষ গঠন। ২. খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন: হিমসাগর আম, লিচু, কুল, টমেটো, পেয়ারা ও মধুর অপচয় রোধ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক শিল্প স্থাপন। ৩. সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন: দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং পাটকেলঘাটাকে উপজেলা ঘোষণা। ৪. মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন: বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য আধুনিক জোন প্রতিষ্ঠা। ৫. সীমান্ত সড়ক নির্মাণ: মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ। ৬. ভোমরা স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন: আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে বাণিজ্য কার্যক্রম সহজ করা। ৭. রেলপথ সংযোগ স্থাপন: নাভারন থেকে ভোমরা ও মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন। ৮. বাস টার্মিনাল স্থানান্তর: যানজট নিরসনে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তর। ৯. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: দেবহাটা উপজেলায় আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। ১০. টেকসই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন: বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ১১. টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ: প্রতিবছরের প্লাবন রোধে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ। ১২. বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা: উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্রকল্প। ১৩. স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: হাসপাতাল সংস্কার, জনবল নিয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা। ১৪. মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়ন: ৫০০ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্থাপন। ১৫. পর্যটন উন্নয়ন: নীলডুমুর ও মুন্সিগঞ্জকে ইকো-ট্যুরিজম জোন হিসেবে গড়ে তোলা। ১৬. ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপন: তরুণদের জন্য আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও জিমনেসিয়াম নির্মাণ।
তরুণরা বলেন, এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়িত হলে সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন-সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদ, প্রধান উপদেষ্টা আফসার আলী, সাধারণ সম্পাদক বকুলুজ্জামান এবং যুগ্ম সম্পাদক স. ম. মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, তরুণদের প্রস্তাবিত এই ১৬ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাতক্ষীরাকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। একইসঙ্গে টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ সহ ১৬ দফা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/167377