ফতুল্লায় ডাকাত সর্দারকে চড় মারায় গৃহবধূকে আধাঘণ্টা আটকে রাখল পুলিশ

ফতুল্লায় ডাকাত সর্দারকে চড় মারায় গৃহবধূকে আধাঘণ্টা আটকে রাখল পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে থানায় গিয়ে ডাকাত সর্দারকে চড় মারেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।  এ ঘটনায় ওই গৃহবধূকে আধাঘণ্টা থানায় আটকে রাখে পুলিশ। 

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরের পর ফতুল্লা মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ বেবী আক্তার। পরে স্বামী আলাউদ্দিনকে নিয়ে তিনি ফতুল্লা থানায় ডিউটি অফিসারের কক্ষে আসামি আব্দুল হালিমকে শনাক্ত করেন। এ সময় তাকে একটি চড় দিয়ে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ফেরত চান ওই গৃহবধূ।  

এ ঘটনায় পুলিশের এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার নারী পুলিশ সদস্য ডেকে এনে বেবী আক্তারকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে নিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রাখেন। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই গৃহবধূর স্বামী আলাউদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে ফতুল্লার সস্তাপুরে নিজ বাড়ির দ্বিতীয়তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রীসহ তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে ডাকাত দল।  পরে ঘর থেকে প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করেন।  

পরবর্তীতে র্যাব আব্দুল হালিমকে গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করে।  তবে তখন তাদের সামনে এনে আসামি শনাক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছবি দেখে ডাকাত সর্দার আব্দুল হালিমকে শনাক্ত করতে পারেন বলে জানান তিনি। 

তিনি আরও বলেন, ডাকাত সর্দার আমাদের হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করেছে। সেই ঘটনার ভিডিও সিসিটিভিতে রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। ১৭ মাস পর তাকে সামনে পেয়ে আমার স্ত্রী একটি চর দিয়ে স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে এসআই নন্দন চন্দ সরকার মারমুখী হয়ে আমার স্ত্রীর ওপর ফুঁসে উঠেন। একপর্যায়ে নারীপুলিশ ডেকে এনে তাকে টেনেহিঁচড়ে ডিউটি অফিসারের রুমে নিয়ে আটকে রাখেন। 

গৃহবধূ বেবী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা নিয়েছে, কিন্তু স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে দেয়নি।  এখন ডাকাত সর্দারকে শনাক্ত করার পরও আমাদের হেনস্তা করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের চেইন দেখতে চেয়েছিলাম তাও দেখায়নি।  উলটো ডাকাতের পক্ষ নিয়ে আমাকে ৪০ মিনিট আটকে রেখেছে পুলিশ।  আমি এর বিচার চাইব।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, পুলিশের সামনে ওই নারী আসামিকে চড় মেরেছেন, এটা অবশ্যই অন্যায় করেছেন। তাদের বাড়িতে যখন ডাকাতি হয়েছে তখন আমি এ থানার ওসি ছিলাম না।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/167244