কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দিন দিন ফাঁকা হচ্ছে  সরকারি আবাসন প্রকল্প

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দিন দিন ফাঁকা হচ্ছে  সরকারি আবাসন প্রকল্প

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ারচর জয়কুমোর গ্রামে গৃহহীন, ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নির্মিত সরকারি আবাসন প্রকল্প এখন অনেকটাই পরিত্যক্ত। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই শতাধিক ঘরের এই আবাসনে বর্তমানে অধিকাংশ ঘরই ফাঁকা পড়ে আছে। এ সুযোগে দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। দ্রুত তদন্ত করে পরিত্যক্ত ঘরগুলো পুনর্বণ্টন এবং অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  

গত রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ঘরগুলোকে কেউ গুদাম হিসেবে আবার কেউ তাতে গরু-ছাগল পালন করছে। নতুন উপকারভোগী অনুমোদন না থাকায় ফাঁকা ঘরগুলো অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারের এই বড় প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। 

জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরের চাবি, কবুলিয়ত দলিল, নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করে। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাজের সন্ধানে অধিকাংশ পরিবার আবাসন ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে মাত্র অর্ধশতাধিক পরিবার সেখানে বসবাস করছে।
উপকারভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নিচু জমিতে ঘর নির্মাণের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘরের ভেতর-বাইরে পানি জমে থাকে, চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।

এছাড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে শিশু-বৃদ্ধসহ বসবাসকারীরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া এলাকার একমাত্র কালুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি ভেঙে পড়ে থাকায় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বসানো ১৬টি নলকূপের বেশিরভাগই অকেজো হয়ে গেছে।

আবাসনের উপকারভোগী বাসিন্দা হযরত আলী ও ছলিমুদ্দিন বলেন, ঘরগুলোতে দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টির সময় কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় এলাকা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার খুব প্রয়োজন। অন্যদিকে ভূমিহীন স্বপ্না (২৮), জয়ফুল (৬০) ও আঞ্জু বেগম (৩৫) বলেন, ধরলা নদীতে ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছে। এখন অন্যের বাড়িত থাকেন তারা। অথচ অনেকেই আবাসনের ঘর পেয়েও থাকে না। সেখানে তাদের ব্যবস্থা করে দিলে উপকার হতো।

ছিনাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান বলেন, অনেকেই কাজের জন্য ঢাকায় চলে যায়, দীর্ঘদিন না থাকায় ঘরগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কাউকে ঘর দেওয়া সম্ভব নয়। 

ছিনাই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আহসান হাবীব মিন্টু বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, জয়কুমোর আবাসন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা গুরুত্বসহকারে দেখছি। পরিত্যক্ত ঘরগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত গৃহহীনদের মাঝে পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যে জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/167219