নওগাঁর রাণীনগরের পাতির দেশব্যাপী খ্যাতি

নওগাঁর রাণীনগরের পাতির দেশব্যাপী খ্যাতি

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের ঐতিহ্যবাহী পাতি দিয়ে তৈরি মাদুরের খ্যাতি আবহমান কাল থেকে এখনও দেশ জুড়ে। তাপদাহ গরমে গ্রামীণ জনপদে এ মাদুর ঘরে ঘরে কদর বাড়াচ্ছে। এর সাথে পাতির দামও দিন দিন বেড়েই চলছে।

তবে কৃষি বিভাগ থেকে ধান ও অন্যান্য ফসল চাষিদের যেভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয় পাতি চাষিদের ক্ষেত্রে তা পুরোটাই উল্টো। যতটুকু চাষ হয় চাষিরা নিজ জ্ঞানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষ করে যাচ্ছে। রবিশস্য মৌসুমে ধান, গম, সরিষা, ভুট্টা, বাদামসহ অন্যান্য শাক-সবজির পাশাপাশি দিনদিন পাতি চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে তার খ্যাতি।

অসময়ের বন্ধু হিসেবে খ্যাত অধিকাংশ কৃষকদের ঘরে এখন পাতি কাটা ও শুকানোর কাজ এলাকা ভিত্তিক চলছে। বাজার মূল্য ভাল ও ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে পাতি চাষের সাথে জড়িত কৃষকরা এখন ফুরফুরে মেজাজে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে তেমন কোন ক্ষতি না হওয়ায় এবং স্বল্প পরিমাণ বালাই নাশক প্রয়োগে, সার্বিক উৎপাদন ব্যয় কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় পাতি চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। এই এলাকায় দুই জাতের পাতি চাষ হয়ে থাকে।

বনপাতি ও জলপাতি চাষে কৃষকরা মনোযোগ দেওয়ায় এ উপজেলায় বিগত বছরের তুলনায় পাতি চাষ বেশি হয়েছে। এ জনপদে আগে পাতি চাষ তেমন না হলেও বর্তমানে মাদুরের প্রধান উপকরণ হিসেবে কদর বেশি থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য ফসলের সাথে রেকর্ড পরিমাণ পাতি চাষ করেছে এ উপজেলার কৃষকরা।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে প্রায় ২৩ হেক্টর জমিতে বনপাতি ও জলপাতি চাষ হয়েছে। শুরুতেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং পাতির ক্ষেতে রোগ-বালাই না থাকায় মিরাট, গোনা, কাশিমপুর, রাণীনগর সদর, কালীগ্রাম ও পারইল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাতি চাষ হয়েছে। পাতি কাটার মৌসুমে রোদ ভাল থাকলে মানসম্পূর্ণভাবে শুকাতে পারলে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৯০ থেকে ১লাখ টাকার পাতি বিক্রি হবে।

উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের করচগ্রামের পাতি চাষি গোকুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমি প্রতি বছর ২ থেকে ৩ বিঘা জমিতে পাতি চাষ করি। পাতি চাষ করেই আমার সংসার চলে। কৃষি অফিস থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সার-বিষ বা পরামর্শ পাইনি। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি আরো বেশি পাতি চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোস্তাকিমা খাতুন জানান, রাণীনগরে পাতি চাষের পরিবেশ বেশ অনূকুল। মাঠ পর্যায়ে চাষিরা স্বল্প পরিমাণ জমিতে পাতি চাষ করছে। ইতোমধ্যে এ শিল্প টিকে রাখতে জিআই স্বীকৃতির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। এ এলাকার ঐতিহ্য যেন বিলুপ্ত না হয়, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। কৃষকদের নিচু জমিতে পাতি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এবার বড় ধরণের কোনো রোগ-বালাই না থাকায় চাষিরা ভালো লাভ পাবেন বলে আশা করছি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/167065