ইরানী নেতৃত্বের কাছে অপদস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : জার্মান চ্যান্সেলর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপদস্থ’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিখ ম্যার্ৎজ। তার দাবি, আলোচনার টেবিলে কৌশলের দিক থেকে তেহরান ট্রাম্প প্রশাসনকে টেক্কা দিয়েই যাচ্ছে।
মার্সবার্গে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যার্ৎজ বলেন, আসলে ট্রাম্পের দলই পিছিয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ইরানিরা স্পষ্টতই আলোচনায় খুব দক্ষ-অথবা বলা ভালো, আলোচনা না করতেই তারা দক্ষ। তারা আমেরিকানদের ইসলামাবাদে আসতে দেয়, তারপর কোনো ফল ছাড়াই ফিরে যেতে বাধ্য করে। তিনি আরও বলেন, একটি পুরো জাতিকে ইরানের নেতৃত্ব অপদস্থ করছে, বিশেষ করে রেভল্যুশনারি গার্ডস। তাই আমি আশা করি, এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার এই অচলাবস্থা নিয়ে ম্যার্ৎজের কঠোর মন্তব্য ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে বিদ্যমান গভীর বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য ট্রাম্পের সেই প্রচেষ্টার সরাসরি বিরোধিতা করে, যেখানে তিনি পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। এর একদিন আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সব কার্ড আমাদের হাতে আছে। তিনি যোগ করেন, তেহরান যদি আলোচনা করতে চায়, তারা আমাদের কাছে আসতে পারে, অথবা আমাদের ফোন করতে পারে।
রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক বিশ্লেষক নিকিতা স্মাঘিন জানান, আলোচনায় রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, বিশেষ করে বাণিজ্যিক ট্রানজিট রুট নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি লেখেন, যদি মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকে, তাহলে কাস্পিয়ান সাগর ও রাশিয়ার সঙ্গে স্থলপথই ইরানের বিশ্ববাজারে সংযোগের অন্যতম শেষ ভরসা হয়ে উঠবে। ইরান বিশেষজ্ঞ আলী ভায়েজ বলেন, ট্রাম্প ও তার দল ভুলভাবে ধারণা করেছিল যে অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতে বাধ্য করবে। তিনি বলেন, অবশ্যই অবরোধ ইরানের অর্থনৈতিক কষ্ট বাড়াচ্ছে। কিন্তু ইরানের স্থিতিস্থাপকতা অর্থনৈতিক কষ্টের ওপর নির্ভর করে না। তারা এটিকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে এবং অনেক বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত। আর ইরানি সরকার জনগণের ওপর সেই চাপ চাপিয়ে দিতে দ্বিধা করে না। খবর : দ্য গার্ডিয়ান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166851