বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল চত্বরই যেন এক গ্যারেজ!
স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর উদ্যোগে এবং তার নামে স্থাপন করা হয় বগুড়া শহরের অন্যতম সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল। ১৯৯৮ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
শয্যা উন্নীতকরণের পর থেকেই বগুড়াবাসীর চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন শত শত মানুষ। সরকারি প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন অনেকেই।
তবে সম্প্রতি হাসপাতালের গ্যারেজ নিয়ে দেখা দিয়েছে জনঅসন্তোষ। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিরাপদে রাখার জন্য গ্যারেজের ব্যবস্থা থাকলেও তা নিয়ে শুরু হয়েছে ‘তুঘলকি কান্ড’।
গ্যারেজ পরিচালনায় থাকা লোকজন হাসপাতালের বড় একটি অংশকে যেমন গ্যারেজে পরিণত করেছেন, তেমনি জোর করে গ্যারেজে গাড়ি রাখতেও বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি হাসপাতাল চত্বরের যে অংশেই গাড়ি থাক, তাতেও দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন অভিযোগ করেছেন, খোদ ওই হাসপাতালের কর্মরতরাও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ফার্মেসির উত্তর পাশে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল গ্যারেজ। টিনশেডের দীর্ঘ গ্যারেজটির সাইনবোর্ডে স্পষ্ট করে লেখা ‘মোটরসাইকেল, সাইকেল গ্যারেজ ব্যতিত অন্যস্থানে রাখা নিষেধ’। এর উপরে তীর চিহ্ন দিয়ে বড় করে লেখা ‘গ্যারেজ’। অথচ এর ব্যবহারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
গ্যারেজের ভিতর কয়েকটি মোটরসাইকেল থাকলেও তাতে আড্ডা চলে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের। আর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ফার্মেসির সামনের বড় ফাঁকা অংশ দখল করে রাখা হয়েছে সারি সারি মোটরসাইকেল। এতে ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে আসা মানুষদের যেমন ভোগান্তি হচ্ছে, তার চেয়েও বড় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জরুরি বিভাগে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের।
এছাড়াও হাসপাতাল মসজিদের পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেঁষে হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে লম্বা করে রাখা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। প্রতিদিন তিন চাকার এসব গাড়ি রাখতে প্রতিটির জন্য গুণতে হচ্ছে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। অথচ এটি গ্যারেজের কোন অংশ নয়।
আবার গ্যারেজের সামনের ফাঁকা মাঠে দেখা মিললো তিন চাকার অটোচার্জার গাড়ির। কথা বলে জানা গেছে, এসব গাড়ি থেকে কোন টোকেন ছাড়াই আদায় করা হয়েছে টাকা। অথচ অটোচার্জার রাখা পিছনের দেয়ালে বড় করে লেখা ‘সরকারি সম্পদ অপচয় রোধে বাহিরের গাড়ী পার্কিং ও ধৌত করা নিষেধ।’
একাধিক মোটরসাইকেল চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতাল চত্বরে মোটরসাইকেল ঢুকালেই কোথা থেকে দুই-তিনজন দৌড়ে এসে এক প্রকার বাধ্য করে গ্যারেজে গাড়ি রাখতে। কোন কিছু বলতে গেলে তারা মারমুখী আচরণ করে। সম্মানের ভয়ে বাধ্য হয়েই সবাই এই চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে মোটরসাইকেল রাখছেন, দিচ্ছেন টাকা।
একই অভিযোগ সিএনজিচালিত ও অটোচার্জার গাড়ির চালকদেরও। তারা বলছেন, হাসপাতালে গাড়ি ঢুকালেই তাদের টাকা দিতে হয়। এতে এই চত্বরের যে অংশেই গাড়ি থাক, টাকা না দিয়ে কোন চালকের রক্ষা নেই। এই চক্রের খারাপ আচরণের অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এমন অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
জানতে চাইলে এই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্যারেজের সামনের ফাঁকা অংশটিতে গাড়ি গ্যারেজ করার অনুমতি আছে। এটি গ্যারেজের অংশ দাবি করে তিনি বলেন, এটি বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হবে।
গ্যারেজ পরিচালনাকরীদের খারাপ আচরণের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের কাছেও এসব ব্যাপারে কিছু অভিযোগ এসেছে, তারা বিষয়টি নিয়ে কথাও বলেছেন। আর হাসপাতালের অন্য অংশে গাড়ি রাখার জন্য টাকা আদায় করা হয় জানালে তিনি বলেন, এটা তাদের জানা নেই, এভাবে টাকা আদায় করার কোন নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান এই কর্মকর্তা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166799