বগুড়ার শেরপুরে দাখিল পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, নিয়মিতদের দেওয়া হলো অনিয়মিতের প্রশ্ন

বগুড়ার শেরপুরে দাখিল পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, নিয়মিতদের দেওয়া হলো অনিয়মিতের প্রশ্ন

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে মাদ্রাসা বোর্ডের অধিনে দাখিল পরীক্ষায় গণিত বিষয়ে চরম দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত সিলেবাসের এমসিকিউ  প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ায় ২৯ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গতকাল রোববার শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে রাজারদিঘি দাখিল মাদ্রাসার ১৩ জন, ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, চকসাদি দাখিল মাদ্রাসার তিনজন ও উলিপুর আমেরিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার তিনজনসহ মোট ২৯ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষ পরিদর্শকরা নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণে ওলটপালট করে ফেলেন। ফলে নিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী অনিয়মিতদের প্রশ্নে এবং অনিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী নিয়মিতদের প্রশ্নে এমসিকিউ পরীক্ষা দেন।

কক্ষ পর্যবেক্ষকদের কড়াকড়িতে একে অপরের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিয়ে হল ত্যাগ করেন। পরে বাড়ি ফিরে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বিষয়টি জানাজানি হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরীক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী রিমু, আতিয়া ও সাদিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমরা নিয়মিত সিলেবাসে প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু আমাদের দেওয়া হয়েছে অনিয়মিতদের প্রশ্ন যা সিলেবাসের বাইরে ছিল। পাস নম্বর তোলাও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের সারা বছরের কষ্ট ও স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে।

অভিভাবক আল আমিন ও ইসমাইল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ড পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ভুল মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে? তারা এখন আগামী পরীক্ষাগুলো দিতেও ভয় পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়ে কক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮নং কক্ষে আছমা খাতুন ও জুয়াইরিয়া সুলতানা এবং ৯নং কক্ষে মামুনুর রশিদ দায়িত্বে ছিলেন। প্রশ্ন বিতরণের আগে যাচাই না করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ও ট্যাগ অফিসার নাঈম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বিষয়টিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ হিসেবে দাবি করে জানান, পরীক্ষার সময় এটি কারো চোখে পড়েনি, রাতে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা দ্রুত শিক্ষা বোর্ডকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166794