গলাচিপায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার

গলাচিপায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পুত্রবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

একই ঘটনায় নবজাতক সন্তান অপহরণের অভিযোগে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত নবজাতক শিশুটিকেও উদ্ধার করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী গ্রামের মোসা. শারমিন বেগম (২৫) তার শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজীর (৬০) বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শারমিন বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম তার শ্বশুর জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনার ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তরা তা গোপন করার চেষ্টা করে এবং গর্ভপাত করানোরও চেষ্টা চালানো হয়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, যেখানে সিজারের মাধ্যমে তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু পরদিন সকালে নবজাতক শিশুটিকে ভুক্তভোগীর অজান্তে লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় শাশুড়ি, ননদসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি জিআর নম্বর ৪২/২৬।

ভুক্তভোগী আরও জানান, দীর্ঘদিন হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় মামলা করেন।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ভিকটিমের অভিযোগ ও এজাহারের ভিত্তিতে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নবজাতক অপহরণ মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে মূল হোতা ও আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166784