বগুড়া সারিয়াকান্দিতে মধ্যরাতে কালবৈশাখীর তান্ডব
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়া সারিয়াকান্দিতে মধ্যরাতে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন গ্রামের বেশকিছু বসতবাড়ি, বসতবাড়ির গাছপালা উপড়ে গেছে। মাঠে কৃষকদের পাকা বোরোধান মাটিতে শুয়ে পরেছে এবং কোথাও বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গেছে। ভারি বৃষ্টিপাতে নীচু এলাকার ধানের জমিতে পানি জমেছে এবং কোথাও ধানগাছ পানিতে ডুবে গেছে ।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার (২৬শেএপ্রিল) রাত ২ টার পর উপজেলায় মাঝারি আকারের বাতাস শুরু হয়। পরবর্তীতে বাতাস খুবই জোরে হওয়া শুরু করে। বাতাসের সাথে প্রচুর বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ঝড়বৃষ্টির সময় প্রচন্ড রকমের বজ্রপাত হয়। প্রায় ৪০ মিনিটের মতো ঝড়বৃষ্টি স্হায়ী হয়। মাঝারি আকারের এ ঝড়বৃষ্টির ফলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বেশকিছু বসতবাড়ি মাটিতে শুয়ে পরেছে আবার কোথাও হেলে গেছে। বসতবাড়ির পাশে থাকা নারিকেল গাছ, আমগাছ, কাঁঠালগাছ, ইউক্যালিপ্টাস গাছসহ বেশকিছু গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে।
এদিকে, বাতাসে উপজেলায় বিভিন্ন ফসলী মাঠে কৃষকদের পাকা বোরোধান মাটিতে শুয়ে পরেছে এবং অনেক জমির ধানগাছ থেকে ধান ঝড়ে পরারও খবর পাওয়া গেছে। এতে ধান কাটতে শ্রমিক খরচ বেশি হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা । এছাড়াও নীচু ডোবা জমিতে হাঁটুপানি জমেছে এবং কোথাও ধানগাছ পানিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া জানান, রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে তার ২ টি আধাপাকা টিনশেড ঘরের সিমেন্টের খুটি ভেঙ্গে ঘরগুলো মাটিতে হেলে পরেছে। বসতবাড়ির পাশের নারিকেল গাছ ভেঙে পরে গেছে এবং গাছটি প্রতিবেশীর ঘরের উপরে পরে তার ঘরেরও বেশ ক্ষতি হয়েছে। মাঠের ডোবা জমির পাকা বোরোধান মাটিতে শুয়ে পরেছে এবং বেশকিছু ধানগাছ পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ধানগাছ শুয়ে পরায় এ বছর ধান কাটতে শ্রমিক খরচ বেশি হবে।
বগুড়া জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২ টা ৫ মিনিটে বগুড়ায় ঝড়বৃষ্টি এবং বজ্রপাত শুরু হয়। তা ২ টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্হায়ী হয়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। ২৪ ঘন্টায় বগুড়ায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ঝরে উপজেলা ভূমি অফিসের দেয়াল ভেঙে গেছে এবং উপজেলা চত্বরের বড় ২ টি গাছ উপরে পরেছে। পুরো উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166672