কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীর পথজুড়ে ভাঁটফুলের শুভ্রতা বিমোহিত পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীর পথজুড়ে ভাঁটফুলের শুভ্রতা বিমোহিত পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ বদলে গেছে। ফুলবাড়ীতে রাস্তার দু’পাশে, গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ও আনাচে-কানাচে অযত্নে অবহেলা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা শুভ্র সাদা ভাঁটফুলের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে পথচারীসহ প্রকৃতি প্রেমিরা।

উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে অযত্নে, অনাদরে ও অবহেলায় বেড়ে ওঠা গ্রামবাংলার অতি পরিচিত বহুবর্ষজীবী বুনো উদ্ভিদ হচ্ছে ভাঁট গাছ। গ্রাম বাংলার চিরচেনা এ ফুলটি হরহামেশা দেখা গেলেও সাদা ফুলের দিকে তাকালে অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। মনের মধ্যে একটা ভাল লাগার অনুভূতি জাগে। যা পথচারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষদের নজর কাড়ছে।

অঞ্চলভেদে এই গাছের ফুল ভাইটা ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, বনজুঁই ফুল, ঘণ্টাকর্ণ হলেও এ অঞ্চলে ভাঁট ফুল নামেই পরিচিত। ফাল্গুন মাসে এই ফুল ফোঁটে। এই ভাঁটফুলগুলো চৈত্র মাস ও বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শোভা ছড়ায়। সড়কের দু’পাশে ভাঁট ফুলের সমারোহ দেখলে মনে হবে প্রকৃতি যেন অপরূপ সাজে সেজেছে।

এছাড়া গ্রাম বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চার পাশের বাঁশ ও সুপারী বাগানগুলোতে ভাঁট ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। চলাচলকারী ফুল প্রেমিরা দেখে মুগ্ধ হন। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সাথে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোঁটে।

ফুলপ্রেমি নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার জানান, আগে যেখানে সেখানে ভাঁটগাছের দেখা মিলতো। আগের মানুষ এটি ঔষধি গাছ হিসাবে চিনতো। গাছের ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে। প্রতিদিন ভাঁটগাছের পাতার রস খেতো। ভাঁট গাছের পাতার রস খুবই উপকারী। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক ও ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য উপকার বেশি।

ভাঁটগাছের পাতাগুলো খসখসে হলেও দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে বেগুনি রঙের মিশ্রণও আছে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি ভাঁটগাছের ফুল ফোঁটে। এই ফুলের রয়েছে মিষ্টি সৌরভ। রাতে বেশ সুঘ্রাণ ছড়ায় এই ফুল। প্রকৃতি প্রেমিরা যেভাবে ফুলের সুভাষ নেন। তেমনিভাবে এ ফুল ফোঁটার পর মৌমাছিরা ভাঁট ফুলের মধু সংগ্রহ করে। ফুল গাছটি ভাঁট বলে পরিচিত হলেও স্থানভেদে এবং ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে এর ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166661