বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে মেহেরিমা জান্নাত ও রাইয়ান নামে আরও দুটি শিশু মারা গেছে। দুটি শিশুই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই নিয়ে বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারটি শিশু মারা গেছে।
শজিমেক হাসপাতাল ও বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ মাস বয়সী মেহেরিমা ১৯ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে শজিমেক হাসপাতালে ভর্র্তি হয়ে ২৫ এপ্রিল শনিবার সকাল ১০টায় মারা গেছে। মেহেরিমা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আরাফাত হোসেনের কন্যা।
অপরদিকে একই দিন দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে দশ মাস বয়সী রাইয়ান মারা গেছে। রাইয়ানকে ১৭ এপ্রিল শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দিবাগত রাতে এই শিশুটি মারা গেছে। শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মনজুর এ-মুর্শেদ জানান, রাইয়ান নামে যে শিশুটি মারা গেছে ওই শিশুটি নিউমোনিয়া, সেরিব্রাল পালস্, হার্টের ইনফেকশন, জ¦রসহ শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে ভর্তি করা হয়। আটদিন চিকিৎসার পর শিশুটি মারা যায়।
ওই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মহসিন জানান, মেহেরিমা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও রাইয়ানের হামের কোনো উপসর্গ ছিলো না। ওই শিশুটি শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলো। এরমধ্যে সেরিব্রাল পালস্, হার্টের ইনফেকশন ছিলো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালে পিআইসিইউ নেই।
পিআইসিইউ থাকলে হয়তো শিশুদের আরও উন্নত চিকিৎসা আমরা দিতে পারতাম। শুধু পিআইসিইউ থাকলেই হবে না ওই মেশিনটি পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত জনবলেরও প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য সচিব শজিমেক হাসপাতালে পরিদর্শনে এলে আমরা তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। উনি আমাদের সমস্যাগুলো শুনেছেন এবং সেগুলো নিরসনের আশ্বাসও দিয়েছেন।
এর আগে বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩০ মার্চ রাত তিনটায় হোমায়রা নামে শেরপুর উপজেলার দশ মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে। অপরদিকে একই উপজেলার রাশমিকা নামে ৮ মাস বয়সী আরেক শিশু ৩১ মার্চ রাত পৌনে ২টায় মারা যায়।
দুটি শিশুই হামের উপসর্গ নিয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। তবে ল্যাব রিপোর্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি শিশুর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অপরদিকে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে এবং ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২২ জনকে বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৬ শিশুকে এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৫ শিশু। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার তিনটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪৭ জন। এরমধ্যে শজিমেক হাসপাতালে ৩৮জন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৫জন এবং টিএমএসএস হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪ শিশু।
বগুড়া জেলার সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম জানান, ২৯ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল রোববার পর্যন্ত বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪৫জন শিশু ভর্তি হয়ে ১৯৮ জনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার ২৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166621