আবারও ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছাদূত হলেন তাহসান খান
মানবিক কাজে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান আবারও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটির সাথে তার চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি এই বিশ্বখ্যাত সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চুক্তির মেয়াদ নবায়নের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাহসান খান বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ৯ বছর পার হতে চলেছে। যতদিন পর্যন্ত কোনো টেকসই সমাধান না আসছে, ততদিন এই মানুষগুলোর প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল থাকা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি ক্যাম্পে এমন সব পরিবারের সাথে কথা বলেছি যারা অকল্পনীয় কষ্টের শিকার হয়েছেন। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমি তাদের সেই লড়াইয়ের গল্পগুলো সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।
২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রথম শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে যুক্ত হন তাহসান। এরপর থেকেই তিনি শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং বিশ্ব শরণার্থী দিবসের মতো বৈশ্বিক কর্মসূচিগুলোতে তার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে ক্যাম্পে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন তাহসানের কাজের প্রশংসা করে বলেন, তাহসান দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের পক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার সম্পৃক্ততা মানবিক দায়িত্ববোধের একটি অনন্য প্রতিফলন। আমরা তার চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পেরে গর্বিত।
ফ্রেইসেন আরও উল্লেখ করেন, ১০ লাখের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া একটি দেশে তাহসানের মতো প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর শরণার্থীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইউএনএইচসিআরের ৩৬ জন শুভেচ্ছাদূত রয়েছেন, যাদের মধ্যে তাহসান খান অন্যতম। বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন ও অধিকার বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে তিনি সংস্থাটির হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে জীবন অতিবাহিত করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির হিসেবে পরিচিত।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166377