গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং

গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বৈশাখের তাপে নওগাঁর রাণীনগরে গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। রাত-দিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘন্টার বেশি থাকছে না বিদ্যুৎ। ফলে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ডায়রিয়াসহ নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশু রোগীদের চাপ বাড়ছে। উঠতি ইরি-বোরো ধানের জমিতে সেচ দিতে চাষিদের সমস্য হচ্ছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছেন, চাহিদার তুলনায় কখনো অর্ধেক আবার কখনো অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

নওগাঁর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র রাণীনগর জোনাল অফিস জানান, এই সমিতির আওতায় আবাসিক সংযোগ রয়েছে ৫৭ হাজার ৫৫২ টি, বানিজ্যিক সংযোগ রয়েছে ৪ হাজার ২৪৯ টি, গভীর-অগভীর নলকূপ বা সেচের সংযোগ রয়েছে ৬৮৫টি, শিল্প সংযোগ রয়েছে ৬০৪টি, দাতব্য সংযোগ রয়েছে ৮৬৭টি এবং নির্মাণ সংযোগ রয়েছে ৫৩টিসহ মোট ৬৪ হাজার ১৯টি।

এসব সংযোগের বিপরীতে বিদ্যুতের গড় চাহিদা রয়েছে ১০ মেগাওয়াট এর কিছু বেশি। চাহিদার তুলনায় কখনো অর্ধেক আবার কখনো তারও কম সরবরাহ পাচ্ছেন। ফলে রাত দিন সব সময় লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের মালিক উপজেলার কসবাপাড়া গ্রামের আনিছুর খাঁন বলেন, তার গভীর নলকূপের আওতায় প্রায় ২৯০বিঘা ইরি-বোরো জমি রয়েছে। প্রায় ১৫ দিন ধরে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে চরম বেকায়দায় আছি। ভালো মতো ইরি-বোরো ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। এমন পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হয় তাহলে ধানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

নওগাঁ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১’র রাণীনগর জোনাল অফিসের উপ-মহা-ব্যবস্থাপক আবু হাসান জানান, এই অফিসের আওতায় আবাসিক, বানিজ্যিক, সেচ, শিল্পসহ মোট ৬৪ হাজার ১৯ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১০ মেগাওয়াট।

সেখানে গড়ে মাত্র ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। আবার কখনো কখনো তারও একটু কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি হয়তো দ্রুতই স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/166167