বগুড়ায় প্রথম দিনেই লক্ষ্যমাত্রার বেশি হাম-রুবেলা টিকা প্রদান

বগুড়ায় প্রথম দিনেই লক্ষ্যমাত্রার বেশি হাম-রুবেলা টিকা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বগুড়ায় প্রথম দিন হাম-রুবেলার টিকা দানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৩২৮ শিশু।

কিন্তু প্রথম দিন টিকা দেওয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৩৪৮ জন শিশুকে এই টিকা প্রদান করা হয়েছে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রাণঘাতী হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে এই বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রথম দিন বগুড়া পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৮০ শিশু, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৯৯ শিশুকে।

বগুড়া সদর উপজেলার প্রথম দিন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৫৯ জন, শিশু কিন্তু দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২৮০ জন শিশুকে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এবার যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করছেন এজন্য পৃথকভাবে বগুড়া শহরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি।

প্রথম দিনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে টিকা প্রদান করা হয়েছে। কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শিশুরা টিকা গ্রহণ করেছে। টিকাদান কার্যক্রম তদারকিতে স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ ইসলাম জানান, ২০২৪-২৬ সালে হাম-রুবেলা টিকাদানের কভারেজ কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ কম ছিল। এই সময়ে মোট টিকা থেকে বঞ্চিত শিশুর সংখ্যা জমে, বার্ষিক জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার বেশি হয়ে যায়। ফলে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অরক্ষিত এই শিশুর সংখ্যা কমানো এবং জনসুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পর পর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে সর্বশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে। তাই হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলায় এবছর ছয় মাস বয়স থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় পৌনে চার লাখ শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম-রুবেলা টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের সাফল্য আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও উৎসাহিত করেছে। আগামী দিনগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। কোন শিশু যেন এই জীবন রক্ষাকারী টিকা থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

দেশব্যাপী মোট ১১ কর্ম দিবস উপজেলা এবং পৌরসভায় ক্যাম্পেইনের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলবে। কমিউনিটিতে সকল শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্র স্থায়ী ঠিকাদার কেন্দ্র ও অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১০ মে পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চলমান থাকবে। নির্দিষ্ট বয়সের সকল শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165853