সমালোচনার মুখে ক্ষমা চাইলেন হান্নান মাসউদ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় অসুস্থ এক জেলের চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। মিরাজ উদ্দিন নামে একজন ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা এবং নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি আবদুল হান্নান মাসউদের কাছে সহায়তা চেয়েও যথাসময়ে সাড়া পাননি ওই জেলে।
মিরাজের পোস্ট অনুযায়ী, সোনাদিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাকিব (৩৫) হান্নান মাসউদের সমর্থক ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনের দিবাগত রাতে আনন্দ মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চার সন্তানের জনক রাকিবের বড় মেয়ের বয়স মাত্র ১১ বছর। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও অপারেশনের নির্দিষ্ট তারিখ না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন তিনি।
মিরাজ দাবি করেন, রাকিব নিজেও স্থানীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এছাড়া মিরাজ নিজেও একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তার ভাষায়, আমার মতো একজন অনুরোধ করার পরও সময় হয়নি, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সহায়তা পাবে?
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটের সময় সক্রিয় থাকা এই জেলের মৃত্যুর ঘটনায় নেতাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি সতর্ক করেন— সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে জনপ্রিয়তার পতন ঘটে।
এই অভিযোগের জবাবে সোমবার (২০ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন হান্নান মাসউদ।
তিনি পোস্টে লিখেন, বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন গত সপ্তাহে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে মিরাজের কাছ থেকে। এরপর নোয়াখালীতে একটি আইনশৃঙ্খলা সভায় যোগ দিতে যাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে যেতে পারেননি।
হান্নান মাসউদ লিখেন, আমি মিরাজকে বলেছিলাম ঢাকায় এসে একসঙ্গে রোগীকে দেখতে যাবো। কিন্তু পরে বিষয়টি আমার মাথায় ছিল না। এজন্য আমি সত্যিই লজ্জিত।
তিনি আরও দাবি করেন, নিয়মিতই তিনি রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করে থাকেন, তবে হয়তো সেগুলো আড়ালেই থেকে যায়, ভুলগুলোই সামনে আসে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165837