সিট পাওয়ার আগেই ক্লাস শুরু, ভোগান্তিতে ঢাবির নবীন শিক্ষার্থীরা 

সিট পাওয়ার আগেই ক্লাস শুরু, ভোগান্তিতে ঢাবির নবীন শিক্ষার্থীরা 

ঢাবি প্রতিনিধি:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথম বর্ষের (২০২৫-২৬ ) সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলের সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়মিত ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নবীন শিক্ষার্থীরা। দূর-দূরান্ত থেকে রাজধানীতে এসে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখনও হলের সিট পাননি, ফলে তাদেরকে অস্থায়ীভাবে আত্মীয়-স্বজনের বাসা, মেস কিংবা ব্যয়বহুল বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এতে যেমন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, তেমনি শিক্ষাজীবনের শুরুতেই মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর হলগুলোর সিট বরাদ্দ দিতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু এ বছর ক্লাস শুরুর সময়সূচি এগিয়ে আসায় সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিভাগগুলোতে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। ফলে যেসব শিক্ষার্থী হলে সিট পাননি, তারা প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন।

প্রথম বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, রাজধানীতে নতুন এসে বাসা খুঁজে পাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি স্বল্প খরচে নিরাপদ আবাসন পাওয়া আরও কঠিন। অনেকেই কয়েকজন মিলে ছোট রুম ভাড়া নিয়ে গাদাগাদি করে থাকছেন। কেউ কেউ আবার প্রতিদিন দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াত করছেন, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। এতে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত উপস্থিত থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস আহমেদ  জানান, “হল না পাওয়ায় আপাতত এক আত্মীয়ের বাসায় থাকছি। সেখান থেকে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট সবকিছু মিলিয়ে খুব চাপের মধ্যে আছি।” আরেকজন বলেন, “মেসে উঠেছি, কিন্তু খরচ অনেক বেশি। পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।”

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রিফাত হক জানান আমি হলের এক সিনিয়রের রুমে কোনোভাবে থাকছি। কিন্তু এতে আমার ক্ষতি হচ্ছে। ঠিকমত পড়তে পারছি না। প্রশাসনের উচিত আমাদেরকে দ্রুত সিট এলোট দিয়ে আমাদের স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া।

এদিকে,  বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ  বলছে, সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন হলের আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় সব শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে সিট দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেধা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে সিট দেওয়া হবে।

শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ আখতরুজ্জামান বলেন ইতিমধ্যে অনেক হলেই সিট বন্টনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের হলেও সেই প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি শিক্ষার্থীরা দ্রুতই তাদের সিট পেয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। খুব শিগগিরই সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শেষ করে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, নতুন আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট কমানো যায়।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিট বরাদ্দের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন কোনো সমাধান চান, যেমন অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা বা পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই এমন অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ শিক্ষার মান ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সার্বিকভাবে, হলের সিট বরাদ্দের আগে ক্লাস শুরু হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা যে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন, তা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এদিকে  আজ দুপুর ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু )ভিপি সাদিক কায়েম ২৫-২৬ সেশনের সিট সমস্যার সমাধান, রেজিস্ট্রার ভবনের ক্রমাগত অসঙ্গতি ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি রোধে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165759